Bangladesh Election 2026

জামাতের ইস্তাহারে নেই চিন বা পাকিস্তান! ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় বাংলাদেশের কট্টরপন্থী দল, আর কী কী অঙ্গীকার

বুধবার ঢাকার একটি হোটেল থেকে দলের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান। ইস্তাহারে বিদেশনীতির ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৯
Share:

বাংলাদেশের জামাত প্রধান শফিকুর রহমান। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাত বুধবার সন্ধ্যায় তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। সেখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কয়েকটি অঙ্গীকার রয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আলাদা করে চিন বা পাকিস্তানের কোনও উল্লেখ নেই। ইস্তাহারে মোট ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে জামাত।

Advertisement

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, ঢাকার একটি হোটেল থেকে জামাতের প্রধান শফিকুর রহমান দলের ইস্তাহার প্রকাশ করেন। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে সরিয়ে আপসহীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেছেন তিনি। মহিলাদের মর্যাদা, নিরাপত্তাকেও জোর দেওয়া হয়েছে। জামাতের ইস্তাহারে বিদেশনীতি সংক্রান্ত আলাদা একটি পর্যায় রয়েছে। বাংলাদেশে তারা ক্ষমতায় এলে কোন কোন বিদেশনীতি অনুসরণ করা হবে, তা ১০টি ধাপে সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাতেই রয়েছে ভারতের উল্লেখ।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সুবিচার এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিদেশনীতি গড়তে চায় জামাত। প্রথমেই তারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশি পাসপোর্টের মান উন্নয়নের কথা বলেছেন। দ্বিতীয় ধাপে অন্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে এসেছে ভারতের প্রসঙ্গ। ইস্তাহারে জামাত লিখেছে, ‘‘প্রতিবেশী এবং নিকটবর্তী দেশগুলির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। সেই তালিকায় থাকবে ভারত, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপ এবং তাইল্যান্ড।’’ এ ছাড়া, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করা জামাতের বিদেশনীতির অন্যতম প্রাধান্য হবে।

Advertisement

আমেরিকা, ব্রিটেন, জামান, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো উন্নত দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপনের অঙ্গীকার করেছে জামাত। যোগাযোগ বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গেও। রাষ্ট্রপুঞ্জ ও ওই ধরনের আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিতে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় জামাত। ইস্তাহারে উল্লেখ করা হয়েছে সার্ক, আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলির কথাও। ক্ষমতায় এলে আন্তর্জাতিক সহায়তায় রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তি অভিযানে যোগদান হবে জামাতের অন্যতম অগ্রাধিকার।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে যোগ দিতে পারছে না। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সমীক্ষায় বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় জনসমর্থনপ্রাপ্ত দল হিসাবে উঠে আসছে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের বিএনপি-র নাম। তবে দ্বিতীয় স্থানেই থাকছে জামাত। বুধবার তারা ইস্তাহার প্রকাশ করল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement