Krishak Bondhu Scheme

ভূমিহীন খেতমজুরদের সাহায্য, প্রশ্ন যাচাই নিয়ে

স্ব-ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীকে জমি নেই, ভাগচাষি বা বর্গাদারের তালিকাভুক্ত নন এবং অন্যের জমিতে কাজ করেই জীবন কাটান, তা জানাতে হবে।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৩
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কৃষকদের জন্য ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প চালু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এ বার ভূমিহীন খেতমজুরদের জন্য আর্থিক সহায়তা চালু করা হল। রবি ও খরিফ মরসুমে দু’বারে দু’হাজার টাকা করে চার হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বিধানসভায় বাজেটে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রবিবার থেকে ভাতা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শিবির করে ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে। কিন্তু যাঁরা সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করবেন, তাঁরা সত্যিই কর্মহীন কি না, তা যাচাই করার স্পষ্ট ব্যাখা মিলছে না সরকারি স্তরে। আবেদনপত্রের সঙ্গে থাকা স্ব-ঘোষণাপত্রের উপর নির্ভর করেই খেতমজুরদের আর্থিক সাহায্য দেবে সরকার।

ভূমিহীন খেতমজুরদের আবেদনের সঙ্গে স্ব-ঘোষণাপত্র ছাড়াও আধার কার্ডের নম্বর ব্যবহারের অনুমোদন, আধার সংযুক্ত থাকা মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবই বা বাতিল চেক, ভোটার কার্ড দিতে হবে। ভূমিহীন খেতমজুরদের জীবিকা হিসাবে অন্যের জমির উপরে নির্ভরশীলতাকেই যোগ্যতার মাপকাঠি ধরবে কৃষি দফতর। স্ব-ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীকে জমি নেই, ভাগচাষি বা বর্গাদারের তালিকাভুক্ত নন এবং অন্যের জমিতে কাজ করেই জীবন কাটান, তা জানাতে হবে। তথ্যে ভুল থাকলে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে সেটাও লেখা থাকবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কৃষক বন্ধু পান না অথচ জমি রয়েছে আবার অন্যের জমিতে খেতমজুর হিসাবেও কাজ করেন, কিংবা ভূমিহীন হলেও বাস্তবে যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক, তাঁরা আবেদন করলে ঝাড়াই-বাছাই কী করে হবে? প্রশাসনের একটা বড় অংশ মনে করছেন, এটা ধরা খুবই কঠিন। এমনকী সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পরেও তথ্য লুকিয়ে কেউ আবেদন করলে, সহজে বোঝা যাবে না। কারণ, সব প্রকল্পের উপভোক্তার অভিন্ন তথ্যভান্ডার রাজ্যে নেই। সে ক্ষেত্রে প্রকল্প ধরে ধরে যাচাই করতে হবে এবং তা সময়সাপেক্ষ। সরকারি নির্দেশিকায় অবশ্য বলা হয়েছে, আবেদনের পরে কৃষি দফতরের আধিকারিকরা তা যাচাই করবেন। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাচাইয়ের সময়ে প্রধানদের কাছ থেকে আবেদনকারী খেতমজুর কি না তার শংসাপত্র নেওয়ার কথা কৃষি দফতর ভাবছে।”

শক্তিগড়ের তাঁতখণ্ডের কাসেদ মোল্লা, টোটপাড়ার সঞ্জয় বিশ্বাস, গলসির বংশীধর আঁকুড়েরা বলেন, “আমাদের নামে কোনও জমি নেই। অন্যের জমিতে খাটতে যেতে হয়। নিয়মিত কাজ মেলে না, সেখানে বছরে চার হাজার টাকা পেলে আমাদের ভালই হবে।” পূর্ব বর্ধমান জেলায় খেতমজুর রয়েছেন ১১ লক্ষ, রাজ্যে ২ কোটি ৯২ লক্ষ। তবে কত জন ভূমিহীন, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কোনও ধারণা নেই। প্রথম তিন দিনে জেলায় ২১ হাজারের মতো ফর্ম বিলি হয়েছে।

সিপিএমের খেতমজুর সংগঠনের রাজ্যের নেতা মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের ধারণা, মোট খেতমজুরের ১৫-২০% ভূমিহীন। একশো দিনের কাজ বন্ধ করে চার হাজার টাকায় ভূমিহীনদের কী উন্নতি হবে? সবই নির্বাচনী চমক।” বিজেপির কিসান মোর্চার রাজ্য সভাপতি রাজীব ভৌমিক বলেন, “এ সব চমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভোটের ঝুলি ভরাতে চাইছেন। যে হারে ধার করে ঘি খাওয়ানো হচ্ছে, তাতে আবেদনকারীরাও জানেন, ভোটের পরে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে।” জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, “কৃষক বন্ধু প্রকল্প চালুর সময়েও বিরোধীরা সমালোচনা করেছিলেন। এখন খেতমজুরদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমালোচনা করছে। কিন্তু কৃষক-পরিবারেরা জানেন, তাঁদের পাশে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন