এক সময় সংস্থার সবথেকে লাভজনক প্ল্যান্ট। কিন্তু সে সুদিন গিয়েছে। বন্ধ হয়েছে প্ল্যান্ট। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন গত বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শেষ হবে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলির একাংশের অভিযোগ, আশ্বাসের পর প্রায় সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা দুর্গাপুর প্রজেক্টস লিমিটেডে’র (ডিপিএল) বন্ধ কোকআভেন প্ল্যান্ট ফের চালু করার বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
গত বছর নভেম্বর মাসে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্ত কোকআভেন প্ল্যান্ট ফের চালু হবে বলে জানান। ডিসেম্বরের মধ্যে ই-টেন্ডার (দরপত্র) ডাকার প্রক্রিয়া সেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ডিপিএল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বেশ কিছু কারণে মন্ত্রীর নির্দেশ মতো ডিসেম্বরের মধ্যে দরপত্র ডাকা সম্ভব হয়নি। তবে তারপরে দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছে বেশ কিছু সংস্থা। সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কবে তা সম্পূর্ণ হবে বা প্ল্যান্ট চালু হবে, তা এখনই বলা মুশকিল।’’
১৯৬০ সালে যাত্রা শুরু হয় ডিপিএল। কোকআভেন প্ল্যান্টে মূলত কয়লা থেকে ল্যাম কোক, হার্ড কোক উৎপাদিত হতো বলে ডিপিএল সূত্রে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও উৎপাদিত হতো কোল গ্যাস। এক সময় প্ল্যান্টের ৫টি ব্যাটারি চালু ছিল। প্রথমে চারটি ব্যাটারি বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে যায়। কয়লার জোগান কম থাকায় গত বছর জুন মাসে পঞ্চম ব্যাটারিটিও বন্ধ হয়ে যায়। কোকআভেন গ্রুপ অব প্ল্যান্ট থেকে লাভও মিলত বলে সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও প্ল্যান্ট বন্ধ হওয়ার আগে শেষ দু’বছরে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯৬ কোটি টাকা। প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় তেরোশো স্থায়ী ও ন’শো ঠিকা শ্রমিকের জীবিকার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। তবে কর্মীদের অন্যান্য বিভাগে পাঠিয়ে দেয় সংস্থা।
প্ল্যান্ট বন্ধ ও ফের চালু না হওয়ায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ডিপিএলের আইএনটিইউসি নেতা উমাপদ দাসের অভিযোগ, ‘‘বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত নজরদারির অভাবে প্ল্যান্টের এই দশা হয়েছে।’’ সিটুর দাবি, বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন একজোট হয়ে ‘কনভেনশন’ করে কর্তৃপক্ষকে কোকওভেন ফের প্ল্যান্ট চালুর দাবি জানান। শুধু তাই নয়, বিধানসভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র মুখ্যমন্ত্রীকেও চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আইএনটিটিইউসি নেতা আলোময় ঘরুইয়ের অবশ্য দাবি, মূলত তাঁদের উদ্যোগেই বিষয়টি রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি বলেন, ‘‘কোকওভেন প্ল্যান্টের কর্মীরা সংস্থার অন্যান্য বিভাগে কাজ করছেন। ফের প্ল্যান্ট চালু হবে।’’