হারের পর হতাশ কুলদীপ যাদব এবং শুভমন গিল। ছবি: পিটিআই।
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আয়ারেরা ব্যর্থ। অধিনায়ক শুভমন গিলের ৫৬ রানের ইনিংসও ভারতকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দিতে পারেনি। তা-ও রাজকোটে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত তুলল ৭ উইকেটে ২৮৪। দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দিলেন লোকেশ রাহুল। তাঁর অপরাজিত ১১২ রান লড়াইয়ের রসদ জোগাল শুভমনের দলকে। লাভ অবশ্য হল না। ড্যারেল মিচেল ১৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নিউ জ়িল্যান্ডকে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন। জল ঢেলে দিলেন রাহুলের লড়াইয়ে। ৪৭.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৮৬ রান করে সিরিজ়ে সমতা ফেরালেন সফরকারীরা।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন নিউ জ়িল্যান্ডের অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেলেও ভারতীয় শিবির প্রায় গোটা ইনিংসেই ভুগল অনিশ্চয়তায়। ভাল শুরু করে আবারও বড় রান পেলেন না রোহিত। ৪টি চারের সাহায্যে ৩৮ বলে ২৪ রান করলেন। এ দিন ব্যর্থ কোহলিও। তাঁর ২৯ বলের ইনিংসে এল ২৩ রান। তার মধ্যে ২টি চার। দলকে ভরসা দিতে পারলেন না সহ-অধিনায়কও। শ্রেয়স করলেন ৮। এমন ভরাডুবির মধ্যে শুরুর দিকে উজ্জ্বল শুধু শুভমন। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করার চেষ্টা করলেন। ২২ গজে জমেও গিয়েছিলেন। ৫৩ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেললেন ৯টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে। যখন মনে হচ্ছিল শুভমনের ব্যাটে বড় রান আসবে, তখনই মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন কাইল জেমিসনের বলে।
১১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারতের ইনিংস কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে আবারও দায়িত্ব নিলেন রাহুল। অযথা তাড়াহুড়ো করেননি। সময় নিয়েছেন। পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গোটা ইনিংসে ঝুঁকিহীন থাকার চেষ্টা করেছেন। ঘরের চেনা মাঠে সাহায্য করতে পারেননি রবীন্দ্র জাডেজাও (২৭)। ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় প্রথম একাদশে আসা নীতীশ রেড্ডিও (২০) চাপ সামলাতে পারলেন না। অলরাউন্ডার হতে চাওয়া হর্ষিত রানার অবদান ৪ বলে ২। তা-ও ঠান্ডা মাথায় দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গেলেন রাহুল। ২২ গজের অন্য প্রান্তে একের পর এক সতীর্থের আউট দেখেও বিচলিত হননি। পিচের অসমান বাউন্স সমস্যায় ফেলেছে। পরিস্থিতি বুঝে রান তোলার গতি বাড়িয়েছেন বা কমিয়েছেন। শেষ দিকে মহম্মদ সিরাজকে (অপরাজিত ২) আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন। এই সব কিছুর যোগফল তাঁর ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৯২ বলের ইনিংসে রয়েছে ১১টি চার এবং ১টি ছয়। এক দিনের ক্রিকেটে নিজের অষ্টম শতরান করার পাশাপাশি দলকে পৌঁছে দিয়েছেন লড়াই করার মতো জায়গায়। রাজকোটের এই পিচে ২৮৪ রানকে আর যাই হোক খারাপ বলা যায় না।
কিউয়ি বোলারদের মধ্যে সফলতম ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিলেন। ৩৪ রানে ১ উইকেট ব্রেসওয়েলের। ৪২ রানে ১ উইকেট অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা জায়ডেন লেনক্সের। ৬৭ রান দিয়ে ১ উইকেট জ়্যাক ফক্সের। জেমিসন শুধু শুভমনের উইকেট পেলেন ৭০ রান খরচ করে।
জসপ্রীত বুমরাহহীন ভারতীয় বোলিং অনেকটাই দাঁত-নখহীন বাঘের মতো। উইকেট তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন হর্ষিত, সিরাজ, জাডেজারা। তা-ও দলে কেন মহম্মদ শামির জায়গা হচ্ছে না, এর উত্তর অজিত আগরকর, গৌতম গম্ভীর ছাড়া আর বোধহয় কারও কাছে নেই। অথচ, হঠাৎ দলে ঢুকে পড়েন উল্লেখযোগ্য কোনও সাফল্য না থাকা আয়ুষ বাদোনি। প্রথম ম্যাচের পর বুমরাহের অভাব মানতে না চাওয়া হর্ষিতও বল হাতে তেমন কিছু করতে পারলেন না।
ভারতীয় বোলারদের নির্বিষ বোলিং কাজে লাগিয়ে স্বচ্ছন্দে ব্যাট করে গেলেন। দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে (১৬) এবং হেনরি নিকোলস (১০) ভরসা দিতে না পারলেও তৃতীয় উইকেটের জুটিতে শুভমনদের চাপে ফেলে দেয় উইল ইয়ং-ড্যারেল মিচেল জুটি। উইকেটের অসমান বাউন্স সামলে সাবলীল ব্যাটিং করলেন দুই কিউয়ি ব্যাটার। অবশেষে তাঁদের ১৬২ রানের জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। তাঁর স্পিন বুঝতে না পেরে নীতীশের হাতে ক্যাচ দেন ইয়ং। ৯৮ বলে তাঁর ৮৭ রানের ইনিংসে রয়েছে ৭টি চার। এর আগে যে দু’এক বার ক্যাচ ওঠেনি এমন নয়। ভারতীয়েরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ইয়ংকে আউট করে কুলদীপ কিছুটা স্বস্তি দিলেও এ দিন প্রচুর রান দিয়েছেন।
ইয়ং আউট হওয়ার পর নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব ছিল মিচেলের। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন গ্লেন ফিলিপস। সিরাজকে চার মেরে শুরু করেন তিনি। আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করে ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্য কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। ভরসা দিলেন মিচেলকেও। তাঁদের জুটি ২২ গজে থিতু হয়ে যাওয়ার পর রান পরিস্থিতি আরও সহজ করে ফেলেন। ভারতের কোনও বোলারই তাঁদের সমস্যায় ফেলতে পারলেন না। তাঁদের জুটিচে উঠল ৫৭ বলে ৭৮ রান। মিচেলের ১১৭ বলের ইনিংসে রয়েছে ১১টি চার এবং ২টি ছয়। ২৫ বলে ৩২ রান করেন ফিলিপস। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২টি চার এবং ১টি ছয়।
ভারতীয় বোলারেরা এ দিন যথেষ্ট হতাশ করলেন। কারও বোলিং দেখেই মনে হয়নি কিউয়িরা সমস্যায় পড়তে পারেন। উইকেটের সুবিধাও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হর্ষিত-সিরাজেরা। কুলদীপ ১ উইকেট নিলেও খরচ করলেন ৮২ রান। ৫২ রানে ১ উইকেট হর্ষিতের। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৪৯ রানে ১ উইকেট নিলেন। আগামী রবিবার সিরিজ়ের ‘ফাইনাল’-এও গম্ভীরকে চিন্তায় রাখবে দলের বোলিং।