Valentines Day Celebration at Ausgram

প্রেমিককে হারিয়ে প্রাণত্যাগ রাজকন্যার, পালিত প্রেমের উৎসব

দেবশালা থেকে বিলাসপুর হয়ে পানাগড় যাওয়ার জঙ্গলের মেঠো রাস্তার পাশেই রয়েছে ওই প্রেমিক যুগলের সমাধি। এখানেই আয়োজন হয় উৎসবের।

প্রদীপ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কয়েক শো বছরের পুরনো এক লোক-কাহিনিকে স্মরণ করে আউশগ্রামের দেবশালায় ফি বছর পালিত হয় প্রেমের উৎসব। শনিবার ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন এ বছরেও সেই উৎসব ঘিরে জমায়েত হল বহু মানুষের।

জনশ্রুতি, এক গোপ যুবক ও এক রাজকন্যার মধ্যে গড়ে উঠেছিল প্রেমের সম্পর্ক। যুবকের সঙ্গে ঘর বাঁধার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে প্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন রাজকন্যা। খবর জানাজানি হতেই রাজরোষের মুখে পড়লেন যুবক। এ দিকে রাজা হত্যা করলেন যুবককে, অন্য দিকে বিরহ সইতে না পেরে রাজপ্রাসাদেই প্রাণ দিলেন রাজকন্যা। কথিত আছে এই প্রেমিক-প্রেমিকার দেহ পুঁতে দেওয়া হয় জঙ্গলের মধ্যে।

দেবশালা থেকে বিলাসপুর হয়ে পানাগড় যাওয়ার জঙ্গলের মেঠো রাস্তার পাশেই রয়েছে ওই প্রেমিক যুগলের সমাধি। এখানেই আয়োজন হয় উৎসবের। দিনভর দেবশালা, গোবিন্দপুর, বিলাসপুর, কৌচার মতো নানা এলাকা থেকে প্রেমিক-প্রেমিকারা আসেন। শ্রদ্ধার সঙ্গে ফুল-পাতা নিবেদন করেন সমাধিতে। হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বনভোজনও। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, ওই সমাধির উপরে কচি পাতা নিবেদন করলে প্রেমের সফল পরিণতি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, এক সময় গোপভূমির এই অঞ্চল পরিচিত ছিল রাজগড় নামে। বর্তমান আউশগ্রাম ২ ব্লকের দেবশালার গড়ের ডাঙা এলাকায় ছিল রাজপ্রাসাদ। পুরো প্রাসাদ ছিল পরিখায় ঘেরা। সিংদরজা ছিল প্রায় কুড়ি ফুট চওড়া। বাসিন্দাদের দাবি, জঙ্গলে রাজকন্যার প্রেমিককে হত্যা করে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল বলে সেই জায়গার পরিচিত হয়েছে নাগরপোঁতার জঙ্গল নামে। আজও সেই পথ দিয়ে যাতায়াতের সময় গাছের কচি পাতা, কখনও ফুল সমাধির উপরে রেখে যান মানুষ।

উৎসবের উদ্যোক্তা মানিক রুইদাস, উদয় প্রামাণিকেরা জানান, আগে সমাধি ছিল সম্পূর্ণ মাটির। পরে সেটি বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজকন্যা ও গোপ যুবকের স্মরণে সমাধির উপরে স্থাপন করা হয়েছে দু’টি মাটির পুতুল। তাঁদের বক্তব্য, “মানুষ এখানে এসে কয়েক শো বছরের ইতিহাসের খুঁজে পান। এই হারিয়ে যাওয়া স্থানীয় ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রশাসনেরও উদ্যোগ প্রয়োজন।” স্থানটিকে জেলার পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আউশগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মমতা বারুই বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন