দুর্গাপুরের বীরভানপুরে তৈরি করা ছটের ঘাট। ছবি: বিকাশ মশান
রাত পোহালেই ছটের উৎসব শুরু হয়ে যাবে। প্রশাসন থেকে শুরু করে পুজো কমিটিগুলির তরফে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি।
আসানসোলের বিভিন্ন পুকুর ছাড়াও, গাড়ুই ও নুনিয়া নদী, অজয় নদে ছটের ব্রত পালন করেন মানুষ জন। গত কয়েকদিন ধরে জেলা প্রশাসনের তরফে এই সব ঘাট ও পুকুর সংস্কার করা হয়েছে। আসানসোল পুর-এলাকায় প্রায় ১৩৩টি পুকুরের সংস্কার করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। পুর-প্রশাসক অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি ঘাটে পুরকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। অমরনাথ বলেন, “জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে ব্রতীদের সুবিধার বিষয়গুলি নজরে রাখা হয়েছে।” আসানসোল-দুগার্পুরের পুলিশ কমিশনার সুধীরকুমার নীলাকান্তম শহরের একাধিক নদীঘাট ও পুকুর পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ব্রতীরা যেন নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
সোমবার দুর্গাপুরের বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের পানশিউলিতে অজয় নদের ঘাট পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ (খাদ্য) সুজিত মুখোপাধ্যায়। কুমারমঙ্গলম পার্কের লেকে, দামোদরের বীরভানপুরের বিসর্জন ঘাটে, পুরষায় দামোদরের ঘাটে, ডিএসপি টাউনশিপের ভাবা রোডের পুকুরে, এমএএমসি এলাকার অর্জুনবাঁধ প্রভৃতি জলাশয়ে ঘাট তৈরি করা হচ্ছে। পানাগড়ের বিভিন্ন জলাশয়ে ঘাট তৈরির কাজ চলছে। একই ভাবে অণ্ডালে সিঙ্গারণ নদ, দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকে অজয় নদে মাধাইপুর, পানশিউলি প্রভৃতি জায়গায় ঘাট তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি, ঘাটে যাতায়াতের রাস্তার সংস্কার, আগাছা সাফাই, পথবাতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, হঠাৎ কোনও অঘটন ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যাতে নেওয়া যায়, সে জন্য নৌকার ব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাসেবক তৈরি রাখার প্রস্তুতিও চলছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। এ দিন পুরষা ঘাটে গিয়েছিলেন ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্ত। তিনি জানান, হাই কোর্টের নির্দেশে ছটপুজোয় ঘাটে আসা সকলকে মাস্ক পরতে হবে। ছটপুজো কমিটিগুলিকে তা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে রানিগঞ্জ, অণ্ডাল, জামুড়িয়ায়ও। আসানসোল পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিগঞ্জে ২৭টি পুকুরে মাটি কেটে ঘাট তৈরি করা হয়েছে। আসানসোল পুরসভার বাস্তুকার ইন্দ্রজিৎ কোনার জানান, বড়দহি, বুজিরবাধ, যমুনাবাধ, চুনাভাটি, সিহারসোল, লাইকবাঁধ, রাজারবাঁধে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পুকুরের রাস্তায় পাথর গুঁড়ো ফেলে মেরামত করা হয়েছে। ছটপুজোর দিনগুলিতে পুরসভা গঠিত ‘মনিটরিং’ দলের প্রতিনিধিরা এলাকায় ঘুরবেন। তাঁদের কাজ হবে প্রতটি ঘাটের কমিটিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চাহিদা মতো ব্যবস্থা করা। বিডিও (অণ্ডাল) সুদীপ্ত বিশ্বাস জানান, অণ্ডালে ১৪টি পুকুরে ছটপুজো হচ্ছে। প্রতিটি ঘাটে দু’জন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডুবুরি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রাখা হচ্ছে।
জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দলের নোডাল অফিসার তমোজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের উদ্ধারকারী দল তৈরি আছে। প্রয়োজন মতো তারা সাহায্যে এগিয়ে যাবে।”