শিল্প-সেতুর এলাকা পরিদর্শন। বর্ধমানে। নিজস্ব চিত্র
জমি-জটে প্রকল্প আটকে থাকা এ বঙ্গে নতুন নয়। কিন্তু সরকারি জমি হাতে থাকার পরেও স্রেফ দখলদারির কারণে প্রকল্প আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বর্ধমানের ‘শিল্প-সেতু’ নিয়ে। সেতু তৈরির বরাত পাওয়া চণ্ডীগড়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থা দামোদর ও ইডেন ক্যানালের পাড়ে থাকা জবরদখলকারীদের সরাতে গত মার্চ মাস থেকে প্রশাসন ও পূর্ত দফতরকে (সড়ক) ক্রমাগত চিঠি দিচ্ছে। পূর্ত দফতর (সড়ক) জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সোমবার বিকালে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরা প্রস্তাবিত সেতু সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে সরকারি জায়গায় বসবাসকারীদের সঙ্গে প্রাথমিক কথা বলেন। ওই দখলদাররা সেতু তৈরির কাজ শুরু হলেই উঠে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, “সরকারি জায়গায় কিছু দখলদার রয়েছেন। আমি ও জেলাশাসক তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। নিজেরাই জায়গা দেখে উঠে যাবেন।” মন্ত্রীর দাবি, “এলাকায় উন্নয়নের জন্য রাস্তা, সেতুর প্রয়োজন। বর্ধমান-আরামবাগ রোডে দামোদরের উপরে থাকা কৃষক সেতুতে দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। যানজট হলে তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। সে কারণেই দামোদরের উপরে নতুন সেতু তৈরি হচ্ছে।” তবে পুরোদমে কাজ শুরু হতে মাস খানেকের বেশি সময় লাগবে।
২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে কৃষক সেতুর পাশে বর্ধমান ও খণ্ডঘোষের মধ্যে শিল্প-সেতু তৈরির কথা বলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকল্পের খরচ নিয়ে টানাপড়েন থাকায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিকাঠামো তহবিলে (সিআইআরএফ) আবেদন করা হয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে ৩৪৭.১১ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। সব খরচ নিয়ে সেতু তৈরিতে ৩৮০ কোটি টাকা ধরা হয়। গত ২৬ অগস্ট শিলান্যাসও হয়। দরপত্রে শিল্প-সেতুর সঙ্গে ইডেন ক্যানেলের উপর ৮০ মিটার লম্বা সেতুর খরচ, ইডেন ক্যানালের উপরে পুরনো সেতু ভেঙে নতুন করে তৈরির কথা রয়েছে। সেতুর দু’প্রান্তে দু’টি ছোট গাড়ি যাওয়ার মতো আন্ডারপাসও তৈরি হওয়ার কথা।
পূর্ত দফতর সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ঠিক ছিল পূর্ত দফতরের বর্ধমান (২) উপভুক্তি সেতু তৈরির কাজ করবে। কিন্তু এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার নির্দেশ দেয়, পূর্ত দফতরের সড়ক বিভাগের দক্ষিণ-হাইওয়ে ডিভিশন সেতু তৈরি করবে। ৯১৩ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা, প্রথম বছরে ২০% ও দ্বিতীয় বছরে ৭০% কাজ শেষ করার কথাও বলা হয়। ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। সূত্রের খবর, ওই সংস্থা পূর্ত দফতরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, বরাত পাওয়ার (১৪ মার্চ) পরেই তারা দামোদরের ধারে ইমারতি দ্রব্যের নির্মাণ সামগ্রী তৈরির উৎপাদন ক্ষেত্র তৈরি করা শুরু করেছে। কিন্তু জবরদখলকারীদের না সরালে কাজ শুরু ও শেষ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে করা যাবে না।
পূর্ত দফতরের দাবি, সেতু বা সংযোগকারী রাস্তা তৈরির জন্য প্রশাসনকে জমি কিনতে হবে না। ৮২ জন দখলদারকে সরানোর প্রক্রিয়া আগেই হয়েছে। সম্প্রতি আরও দেড়শো পরিবারকে সরে যাওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক বঁদুই, রঞ্জিত মণ্ডলদের দাবি, “প্রাথমিক ভাবে একটি জায়গার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেতু তৈরি শুরু হলেই আমরা ওই জায়গায় চলে যাব। তবে সবার ঠাঁই হচ্ছে না।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে