মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
প্রায় দশ বছর আগে ভাগীরথীর উপরে কালনা-শান্তিপুর সেতুর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিল তৃণমূল সরকার। এখনও জমি কেনাই শেষ হয়নি। ২০১৭ থেকে প্রতি ভোটের আগেই সেতুর দাবি ভেসে ওঠে। তবে কাজে বিলম্বের কারণেই হয়ত গত কয়েক বছর সেতুর প্রসঙ্গ শোনা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। সোমবার পূর্বস্থলীতে ভোট প্রচারে এসে অবশ্য ফের সেতু নিয়ে আশ্বাস দিলেন তিনি।
মমতা বলেন, ‘‘কালনা থেকে শান্তিপুরের মধ্যে সেতু তৈরি করছি এক হাজার একশো কোটি টাকা দিয়ে। কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে ১৫-২০ মিনিটে শান্তিপুর থেকে কালনা পৌঁছে যাওয়া যাবে।’’
কালনার বাসিন্দাদের বহু দিনের চাহিদা এই সেতু। সেতু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। চাঙ্গা হবে অর্থনীতিও। ২০১৭-এ সেতু তৈরির জন্য সরকার অর্থবরাদ্দ করে। পরের বছর কালনা শহরে একটি সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সব ঠিক থাকলে সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২২ সালে। কিন্তু এখনও কালনা ২ ব্লকের সাতগাছি পঞ্চায়েতের চারটি মৌজায় এবং শান্তিপুরে সেতুর জন্য জমি কেনার কাজ শেষ হয়নি। প্রশাসনের দাবি, কালনা ২ ব্লকে জমি কেনার কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ। শান্তিপুরেক দিকে এতটা কাজ এগোয়নি। কালনার এক সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘‘৮০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খরচ করে কালনার চার মৌজায় সেতুর জন্য জমি কেনা হয়েছে। ২০২৪-র পরে আর জমি কেনার কাজ হয়নি।’’
সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ বার এখনও কালনার কোথাও তৃণমূলের দেওয়াল লিখন দেখা যায়নি। সিপিএম বেশ কিছু দেওয়াল লিখেছে তৃণমূলকে বিঁধে। সোমবার সিপিএম যখন মনোনয়ন দিতে যায় তখনও সেতুর প্রসঙ্গে তোলা হয় মিছিলে। সিপিএমের কালনা শহর এরিয়া কমিটির সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভাগীরথীর উপরে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম হয় বামেদের আমলে। অর্থ বরাদ্দও হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে সেতু নির্মাণ নিয়ে পুরশ্রী মঞ্চে বৈঠক হয়েছিল। সময়ের অভাবে আমরা সেতু তৈরি করতে পারিনি। তৃণমূল পরিচালিত সরকার প্রায় দেড় দশক ধরে সেতু করব বলে শুধু ভাঁওতা দিয়ে চলেছে।’’
বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি ধনঞ্জয় মণ্ডলের দাবি, ‘‘জমি কেনার কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেতুর কাজ শুরু হবে বলে মনে হয় না। তৃণমূল সরকার সেতু তৈরিতে ব্যর্থ। প্রচারে তা তুলে ধরা হচ্ছে।’’
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে কিছুটা হলেও হাঁফ ছাড়ে শাসক দল। বিদায়ী বিধায়ক তথা কালনার তৃণমূল প্রার্থী দেবপ্রসাদ বাগের বক্তব্য, ‘‘সেতু যদি না হয়, তবে কয়েক মাস আগে কেন মাটি পরীক্ষার কাজ হল? কেনই বা ৯৮ শতাংশ জমি কেনা হল? বিরোধীরা অপপ্রচার চালাচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরে আমরা সেতুর কাজ দ্রুত এগোবে বলে প্রচাব করব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে