West Bengal Elections 2026

কাজ করলে তবেই প্রার্থী, বার্তা নেত্রীর

সম্প্রতি জেলার বেশ কিছু তৃণমূল নেতা-কর্মী আমজনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দেন। এ দিন তাঁরা পুরনো দলে ফেরেন।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:০৮
Share:

পূর্বস্থলী উত্তরের নেতা তপন চট্টোপাধ্যায়। ছবি: এক্স।

দল তাঁকে প্রার্থী না করায় তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থাকে নিশানা করেছিলেন। নিজের জমিতে তৈরি তৃণমূল কার্যালয়ে দলের নাম মুছে লিখেছিলেন ‘প্রাক্তন বিধায়কের কার্যালয়’। নাম না করে পূর্বস্থলী উত্তরের সেই নেতা তপন চট্টোপাধ্যায়কে সোমবার পূর্বস্থলীর নিমতলা মাঠের সভা থেকে কড়া বার্তা দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন পূর্বস্থলী দক্ষিণ, উত্তর এবং নবদ্বীপ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘কেউ কেউ আছে, কাজও করবে না, সারা জীবন তাকে প্রার্থী করতে হবে। এটা দল পারে না। মানুষের কাজ যে করবে সে প্রার্থী হবে। প্রার্থী হলে দলের কাজ করব, না হলে গোসা করে অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ করব, দু’ধরনের জিনিস চলতে পারে না।’’

ওই কেন্দ্রে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী কলকাতার পুরপ্রতিনিধি বসুন্ধরা গোস্বামী। মমতা বলেন, ‘‘আজ কেন বসুন্ধরাকে আনতে হল? যদি কাজটা (বিধায়ক) ঠিক মতো করত তা হলে বসুন্ধরাকে নিয়ে আসতাম না। ও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর মেয়ে। স্কুটারে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর মেয়ে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মেয়ে। তাই ওকে নিয়ে এসেছি।’’ তপনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘২০১৪-এ স্ত্রী মারা যান। রাজনীতির কারণে সংসার দেখাশোনা করতে পারেনি। এখন সংসারে মন দিয়েছি। আমি কী কাজ করেছি, এলাকার মানুষ তা জানেন।’’

সম্প্রতি জেলার বেশ কিছু তৃণমূল নেতা-কর্মী আমজনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দেন। এ দিন তাঁরা পুরনো দলে ফেরেন। মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের হাতে পতাকা তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছনোর আগে সেখানে দেখা যায় দলত্যাগী পূর্বস্থলীর প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান পঙ্কজ গঙ্গোপাধ্যায়কে। মাস তিনেক আগে তিনি আমজনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দিয়ে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁকে রাজ্য সহ-সভাপতির পদ দেয় আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। তাঁর সঙ্গে দলবদল করেছিলেন ফজলুল হক মণ্ডল, মদনমোহন পাল, মিলন শেখের মতো কয়েক জন। এ দিন তাঁরাও পুরনো দলে ফেরেন। পঙ্কজ বলেন, ‘‘বেশ কয়েক জন নেতা-সহ পিলা, পাটুলি, মুকসিমপাড়া, নিমদহ, মেড়তলা, কালেখাঁতলার মতো পঞ্চায়েত এলাকাতেও বিদায়ী বিধায়কের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বসে গিয়েছিলেন অনেকে। ওঁকে এ বার টিকিট দেওয়া হয়নি। তাই প্রায় ৮০০ কর্মী-সমর্থক ফের তৃণমূলে এল। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নীতি-আদর্শ আমাদের ভাল লাগেনি।’’

গত লোকসভা ভোটে বর্ধমান পূর্বের বিধানসভাগুলিতে তৃণমূলের ভোট বাড়লেও একমাত্র পূর্বস্থলী উত্তরে কমে যায়। লোকসভা ভোটের নিরিখে এই কেন্দ্রে বিজেপির থেকে হাজার তিনেকের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের অন্দরমহলের খবর, এই আসনে লড়াই কঠিন বলে মনে করছে দল। জেলার একমাত্র এই কেন্দ্রেই বিজেপি-শাসিত তিনটি পঞ্চায়েতে রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে, দলের নেতা-কর্মীদের একাংশ তপনকে টিকিট না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন দলের কাছে। অনেকে বিদ্রোহী হয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দেন। সেই প্রেক্ষিতে তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন