প্রেমিকার অভিযোগে বন্দি, জেলেই বসল বিয়ের আসর

সকাল হতেই সাজোসাজো রব জেলে। বসছে যে বিয়ের আসর। পাত্র: আপাতত জেলবন্দি বছর পঁচিশের যুবক। পাত্রীর পরিচয়, ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারিণী। রবিবার এ রকমই এক বিয়ের আসর ঘিরে মেতে উঠল দুর্গাপুর মহকুমা সংশোধনাগার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৫ ০০:৫৮
Share:

সকাল হতেই সাজোসাজো রব জেলে। বসছে যে বিয়ের আসর। পাত্র: আপাতত জেলবন্দি বছর পঁচিশের যুবক। পাত্রীর পরিচয়, ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারিণী। রবিবার এ রকমই এক বিয়ের আসর ঘিরে মেতে উঠল দুর্গাপুর মহকুমা সংশোধনাগার।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসার আড়া ঝর্ণাপল্লির বাসিন্দা বছর একুশের এক তরুণীর সঙ্গে বছর চারেক ধরে সম্পর্ক ছিল কালীনগরের বাসিন্দা ওই যুবকের। দু’জনের পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে যুবকটি তাঁকে দাদার বিয়ে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই যুবকের দাদার বিয়ে হলেও প্রীতিভোজে ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারকে নেমন্তন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ। ওই দিনই তরুণী কালীনগরে গিয়ে রীতিমতো ঝগড়া জুড়ে দেয় ওই যুবকের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, ওই তরুণী আচমকা সংলগ্ন একটি কুয়োতে ঝাঁপও দেয়। অবশ্য জল না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান ওই তরুণী। পরের দিনই তরুণীর পরিবারের তরফে ওই যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ৪ মার্চ গ্রেফতার হন ওই যুবক। ধৃত যুবকের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

এর পর থেকেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করে। রীতিমতো ঘটকালির ভূমিকায় নেমে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা অজয় চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। শেষ পর্যন্ত দুই পরিবার ঠিক করে, যত দ্রুত সম্ভব দু’জনের বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে। সেই মর্মে আদালতে আর্জিও জানান দু’পক্ষের আইনজীবী। আদালত বিয়ের আর্জি মঞ্জুর করলে শুরু হয় তোড়জোড়।

Advertisement

এ দিন সকাল থেকেই সংশোধনাগারের বিয়ের মণ্ডপে উপস্থিত ছিলেন ছেলের বাড়ির লোকেরা। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুর ১২টা নাগাদ লাল গাড়ি চেপে কনে আসতেই শুরু হল শঙ্খ আর উলুধ্বনি। সত্তোরর্ধ্ব পুরুতমশায় ভগবত্‌ পাঠকও প্রজাপতি ঋষির নামোচ্চারণ করে বর-কনেকে বলাতে শুরু করলেন ‘যদিদং হৃদয়ং মম, তদিদং হৃদয়ং তব।’ বিবাহ নিবন্ধন আধিকারিকও তাঁর দায়িত্ব পালন করলেন। মালা বদল শেষে মিষ্টিমুখও করেন পরিবারের সদস্যরা। বর-কনেকে আশীর্বাদ করতে পাত্রের মামা এসেছেন বর্ধমান থেকে। উপস্থিত ছিলেন পাত্রের দিদিও।

ঘণ্টাখানেক পর অন্যান্যরা সবাই সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে এলেও বরকে এখনও বন্দিই থাকতে হবে। পাত্রের আইনজীবী দেবাশিস গোস্বামী জানান, বরের জামিন মেলার পরই কনে বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাবেন। ছেলের বিয়ে দিয়ে খুশি আদলীদেবীও। তবে তাঁর আক্ষেপ, “বড় ছেলের ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছি। ছোট ছেলের বিয়েটা এ ভাবে সারতে হল। সবই কপাল!” স্থানীয় বাসিন্দা অজয় চট্টোপাধ্যায়েরও দাবি, “সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে কত কী হয়ে গেল!” দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক কস্তুরী সেনগুপ্ত জানান, আদালতের নির্দেশেই নিয়ম মতো বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement