Bardhaman Couple Detained

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ভাগ্নির বিয়ে ভাঙতে ষড়যন্ত্রী মামা! রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে স্কুটারে রিভলভার রাখেন তিনি-ই

‘ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে’-তে বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়েন এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং প্রেমিক। ওই ছাত্রী তথা পাত্রীর স্কুটারের বুট খুলে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পায় পুলিশ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৪
Share:

সেই স্কুটার এবং সেই রিভলভার। —নিজস্ব ছবি।

ভাগ্নির প্রেমে ‘ভিলেন’ মামা। ভাগ্নির বিয়ে আটকাতে তিনি এমনই ষড়যন্ত্র করেছিলেন যে, যার জন্য পুলিশের হাতে আটক হতে হয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং প্রেমিককে। তাঁদের ছেড়ে এ বার ‘ষড়যন্ত্রী’ মামাকে পাকড়াও করল পুলিশ। বর্ধমান শহরে হবু বর-বৌ আটকের ঘটনায় নয়া মোড়।

Advertisement

শনিবার ‘ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে’-তে বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়েন এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং প্রেমিক। ওই ছাত্রী তথা পাত্রীর স্কুটারের বুট খুলে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছে পুলিশ। থানায় গিয়ে ছাত্রীর দিদিমা দাবি করেন, নাতনিকে ফাঁসাতে কেউ ষড়যন্ত্র করেছেন। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ‘ষড়যন্ত্রকারী’ আসলে ছাত্রীর মামা, শ্রীকান্ত দাস। রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ মোড়ে বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী জানান, শনিবার পরীক্ষা ছিল না। তা-ই ওই দিন বিয়ের রেজিস্ট্রির জন্য প্রেমিককে নিয়ে গিয়েছিলেন সরকারি অফিসে। তাঁর স্কুটারের বুটে কে বা কারা আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছেন, তিনি জানেন না। চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া প্রেমিকও জানান, এ বিষয়ে তাঁর ধারণাই নেই। পুলিশ সূত্রে খবর, যুগলকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের পর তাদের সন্দেহ হয়, নেপথ্যে অন্য কেউ রয়েছে। তার পরেই খোঁজখবর করতে গিয়ে শ্রীকান্তের নাম পেয়েছে তারা।

Advertisement

তদন্তকারীরা জানান, তরুণীর মামা শ্রীকান্ত এক সহযোগীকে নিয়ে ভাগ্নির স্কুটারের বুটে ছ’ঘড়ার একটি রিভলভার রেখে দেন। নাম গোপন করে তাঁরাই পুলিশে খবর দিয়েছিলেন। শ্রীকান্তকে পাকড়াও করতে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। কেন এই কাজ করলেন? শ্রীকান্ত জানান, ভাগ্নির বিয়ে আটকাতে এবং হবু জামাইকে ফাঁসাতে এই পরিকল্পনা করেন তিনি। সন্দেহ করা হচ্ছে পারিবারিক গন্ডগোল থেকে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন ধৃত।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। তাঁর সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রে আর কেউ যুক্ত ছিলেন কি না এবং কোথা থেকে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করেছিলেন, সব কিছুই খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। রবিবার ধৃতকে আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

অন্য দিকে, শনিবার রাতেই ব্যক্তিগত বন্ডে প্রেমিক যুগলকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement