পুজোর কাজের ফাঁকেই চলছে খেলা। নিজস্ব চিত্র।
ঠাকুর আনা, মণ্ডপ সাজানো থেকে বাজার করা— পুজোর সব কাজেই ওরা। এমনকী, পুরোহিত ঠিক করাও ওদেরই কাজ। ‘ওরা’ হল পূর্বস্থলী বিদ্যানগর এলাকার হাজার খানেক কিশোর। ১৬ বছরে পা দেওয়া পূর্বস্থলীর ‘শিশু মেলা কমিটির’ পুজোর ভার ওদেরই হাতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় অভাবী পরিবারের অনেক শিশু রয়েছে। পুজোর আনন্দ তাদের অন্তরায় অর্থ। সেই কিশোরদের নিয়েই ষোল বছর আগে শুরু হয় এই দুর্গাপুজো। আর পাঁচটা পুজোর মতোই প্রতি বছর পুজোর আগে ওই কমিটি বৈঠক করে। ঠিক হয়, কোন কাজ কারা করবে। তারপর পুজোর মাসখানেক আগে পাল বাড়িতে গিয়ে প্রতিমা বায়না দেওয়া, ঠাকুর আনা, বড়দের নিমন্ত্রণ করা সব দায়িত্বই তাদের। শিশুমেলা কমিটির খুদে সদস্যেরা জানায়, বিদ্যানগর স্কুলের মাঠে নিজের হাতে মণ্ডপ সাজায় তারা। রং-তুলি দিয়ে দেওয়ালে ছবি আঁকে। সাহায্য করেন এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। সারা বছর নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও পুজোর চার দিন এলাকার শিশুদের সঙ্গেই কাটান তিনি।
ষষ্ঠীর সকাল থেকেই বিদ্যানগর, কোবলা, হেমায়েতপুর, শ্রীরামপুর, সমুদ্রগড়ের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শশুরা চলে আসে মণ্ডপে। নখ-চুল কাটিয়ে স্নান করিয়ে তাদের দেওয়া হয় নতুন পোশাক। এ বার মণ্ডপে ঢোকার মুখে লাগানো হয়েছে রঙিন আলো। লোকজনকে সচেতন করতে সার দিয়ে নানা ভেষজ গাছ এবং তাদের উপকারিতা লিখেছে শিশুরা। ফ্লেক্সের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে নানা সরকারি প্রকল্পের কথা। মণ্ডপের গা ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে একটি মঞ্চ। যেখানে সপ্তমী থেকে যাত্রা-সহ নানা অনুষ্ঠান চলবে। দেখানো হবে ম্যাজিক শো। জানা যায়, মঞ্চস্থ হবে ‘নির্মল করো মন’ নামে একটি নাটক। সেখানে অভিনয় করবেন অঙ্গনওয়ারি কর্মী এবং বেশ কিছু শিশু। সপ্তমীর বিকেলে রয়েছে পুতুল নাচ। এ ছাড়া লীলাকীর্তন, সিনেমা, গল্প বলা, রায়বেঁশে নাচেরও আয়োজন রয়েছে।
শিশুদের সঙ্গে মণ্ডপে আসেন অনেক গরিব অভিভাবকও। তাদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র। খাওয়ানো হয় পায়েস, লুচি, পোলাও। দশমীতে শিশুদের জন্য থাকে মাংস-ভাত। পুজোয় যোগ দেওয়া আকাশ দাস, সাগর দাস, শিবু নাথেরা বলে, ‘‘পুজোর চার দিন পড়া থেকে ছুটি। শুধু আনন্দ। অনেক মজা হয়। পুজো শেষ হওয়ার পর থেকেই ভাবতে থাকি, আবার কবে মা আসবে।’’ মন্ত্রী স্বপনবাবু বলেন, ‘‘এই কটা দিন অন্য কোনও কাজ রাখি না। ওদের সঙ্গেই থাকি। ওদের মধ্যেই নিজের ছেলেবেলা খুঁজে পাই।’’