শক্তিগড় থানা। — নিজস্ব চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্প ‘পথসাথী’ মোটেল। জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়া আসার সময়ে সাধারণ মানুষের থাকা ও খাওয়ার সুবিধার জন্য এই প্রকল্প শুরু করেছিল সরকার। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের সেই মোটেলই বদলে গেল থানায়। জেলা পুলিশ সুপার সায়ক দাস-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন থানার উদ্বোধন করলেন ডিজি রাজীব কুমার।
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে ‘পথসাথী’ পরিচালিত হত স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দ্বারা। ২০১৮ সালে রাজ্য সরকারের আবাসন ও পূর্ত দফতরের উদ্যোগে ও বর্ধমান-২ ব্লকের বিডিও কমলিকা ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে এই মোটেল চালু হওয়ার পর থেকেই সুনাম অর্জন করেছিল। খাবারের মানও ছিল ভাল। তবে করোনা পরবর্তী সময় থেকেই শুরু হয় সমস্যা। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর মোটেলটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পর্যটন দফতর দায়িত্ব নিলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ওই ভবনেই থানা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘অপরিকল্পিত ভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকারি ভবন তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার মহিলাদের আয় বাড়ছিল। এখন হোটেল বন্ধ করে থানা করা হল। এ ভাবেই সরকারি অর্থ নষ্ট করা হচ্ছে।’’
থানার জায়গায় আগে ছিল মোটেল। — নিজস্ব চিত্র।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বিজেপি-র অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা বলেন, ‘‘পথসাথী মোটেল চালু হওয়ার পর থেকেই তা সে ভাবে সফল হয়নি। পরে পর্যটন দফতর অধিগ্রহণ করলেও ভাল ভাবে চলেনি। তাই প্রশাসনিক প্রয়োজনে সেখানে থানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ ডিজি ও এএসপি এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি।