বিতর্কে: দুই নেতার সেই দুই ফ্লেক্স। মেমারিতে। নিজস্ব চিত্র
এক জনের ফ্লেক্সে ‘বিজয়া দশমী, মহরম ও দীপাবলীর শুভেচ্ছা’ জানিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানোর ডাক দেওয়া হয়েছে।
অন্য জনের ফ্লেক্সে, বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েত যে উন্নয়ন করেছে, তা আরও বাড়ানো ও পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মেমারির আশপাশে দেখা যাচ্ছে এমন দু’টি ফ্লেক্সই। তবে গোল বেধেছে ফ্লেক্সে মেমারি ১ ব্লক তৃণমূল যুব সংগঠনের সভাপতির নাম নিয়ে। দুই নেতাই নিজেকে সেই পদাধিকারী বলে দাবি করেছেন নিজের-নিজের ফ্লেক্সে।
প্রথম জন অমিত চৌধুরী। তাঁর বাড়ি ওই ব্লকেরই রসুলপুরে। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকে ওই ব্লকের তৃণমূলের যুব সভাপতি তিনি। দ্বিতীয় জন মেমারি ১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, স্থানীয় বাগিলা গ্রামের বাসিন্দা নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ওই ব্লকের যুব সভাপতি ছিলেন। তাঁর দাবি, ‘‘সম্প্রতি জেলাস্তরে একটি বৈঠকের পরে আমাকে ফের ওই পদে আনা হয়েছে। সেইমতো কাজ শুরু করেছি।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘তবে দলের নির্দেশ অমান্য করে কেউ-কেউ ফ্লেক্স টাঙানোয় কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।’’
যুব তৃণমূলের একটি সূত্রে জানা যায়, মেমারির প্রাক্তন বিধায়ক হাসেম মোল্লার সঙ্গে মতানৈক্য থাকায় নিত্যানন্দবাবুকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল সংগঠন। পরিবর্তে হাসেমের ‘ঘনিষ্ঠ’ অমিতবাবুকে সেই পদে আনা হয়। তৃণমূল সূত্রের দাবি, প্রাক্তন বিধায়কের অনুগামীদের সঙ্গে নিত্যানন্দবাবুর গোষ্ঠীর গণ্ডগোল প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। তারই জেরে বিধানসভা ভোটে হাসেমকে সরিয়ে দল নার্গিস বেগমকে প্রার্থী করে। বিধায়ক নার্গিসের সঙ্গে নিত্যানন্দবাবুর সুসম্পর্ক রয়েছে, দাবি দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের।
অমিতবাবু এ দিন বলেন, ‘‘সংগঠন আমাকে নিয়োগ করেছিল। আমাকে ওই পদ থেকে সরানো হয়েছে, এমন কোনও খবর নেই।’’ তাঁর পাল্টা বক্তব্য, ‘‘কেউ যদি নিজেই নিজেকে সভাপতি দাবি করে ফ্লেক্স টাঙান, সংগঠনের জেলা নেতৃত্ব পদক্ষেপ করবেন।’’ প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, দুই গোষ্ঠীর লোকজনই নিজেদের নেতাকে যুব সভাপতি দাবি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুমোদনের আবেদন জানাচ্ছে। তাতে প্রশাসনের আধিকারিকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পুলিশও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। দুই গোষ্ঠীই মেমারি থানায় পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি’ ফ্লেক্স লাগানোর মৌখিক অভিযোগ জানিয়ে সেগুলি খুলে ফেলার অনুরোধ করছে।
ব্লকের যুব সভাপতি আসলে কে? জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি তথা ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল বলেন, ‘‘এলাকার বিধায়ক ও ব্লক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের নির্দেশ মানার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সবাইকে।’’