বর্ধমান টাউন হলে চলছে অনুষ্ঠান। নিজস্ব চিত্র।
লিও টলস্টয়ের মতো রবীন্দ্রনাথও চেয়েছিলেন প্রকৃতির মাঝে শিক্ষাদান। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতেই গড়ে ওঠে বিশ্বভারতী। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে কবিগুরুর সেই শিক্ষা আদর্শের কথায় হাতেকলমে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইল কেউ। কেউ বা আবার অন্যান্য বারের মতো রবি প্রণাম করতে চেয়েছেন গান, কবিতা, নাটক পরিবেশনের মাধ্যমে। রবি-তিথি উপলক্ষে রবিবার দিনভর বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্তে এমনই টুকরো টুকরো ছবি দেখা গেল।
এ দিন সাতসকালেই প্রভাতফেরী বের করেন বর্ধমানের রবীন্দ্র পরিষদের সদস্যরা। ছিলেন পরিষদের সম্পাদক আশিস বিশ্বাস, সর্বজিৎ যশ, রথীন্দ্র চক্রবর্তী-সহ শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রকাশ করা হয় একটি দেওয়াল পত্রিকাও। ‘ছন্দম’ সংস্থার সদস্যরা পরিবেশন করেন নৃত্য, গান। যোগ দেন আবুল হাসান, নীলা কর, ললিত কোনার-সহ সংস্কৃতিকর্মীরাও। প্রশাসনের উদ্যোগেও রবীন্দ্র-স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বর্ধমান পুরসভা, জেলা পরিষদ। পুরসভার অনুষ্ঠানটি হয় টাউন হলে। রবীন্দ্র মূর্তিতে মাল্যদান করেন পুরপ্রধান স্বরূপ দত্ত। অনুষ্ঠানে যোগ দেয় ‘বর্ধমান সঙ্গীত সমাজ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা। জেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু।
কাটোয়ায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাগরী নাট্য সংস্থা, অনুভব নাট্য সংস্থা নামে বেশ কয়েকটি সংগঠন। শহরের একটি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন লোপামুদ্রা ঘোষ। সংহতি মঞ্চে রবীন্দ্র পরিষদ পরিবেশিত নৃত্যনাট্য ‘চন্ডালিকা’র পরিবেশনা নজর কাড়ে দর্শকদের।
উৎসবের মেজাজ ছিল কালনাতেও। শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পল্লিবাসী ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি। ছিল রবীন্দ্র-সাহিত্য নিয়ে আলোচনার আসর। অনুষ্ঠানে যোগ দেন পুরপ্রধান দেবপ্রসাদ বাগ। স্কুলের প্রেক্ষাগৃহে নাটক পরিবেশন করে অ্যাকমে অ্যাকাডেমির পড়ুয়ারা। শোভাযাত্রার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শের কথা প্রচার করে ডান্সিং স্টার অ্যাকাডেমি নামে একটি সংগঠন। পূর্বস্থলীর শাহাজাদপুরে ‘ছোটনদী’ নামে একটি পত্রিকার উদ্যোগে পালিত রবীন্দ্র জন্ম-তিথি। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দু’শো জন পড়ুয়া যোগ দিয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানান।