PF Row in Asansol

পিএফ ইস্যুতে আবার উত্তপ্ত আসানসোল পুরনিগম! কাজ বন্ধ করে দিলেন প্রায় তিন হাজার সাফাইকর্মী

গত বছরের জুলাইয়ে পিএফ-বিতর্ক সামনে আসে। আসানসোল পুরনিগমের ৩৭০ জন স্থায়ী এবং ৩৬৫৮ জন অস্থায়ী কর্মীর বেতন থেকে টাকা কাটা হলেও তাঁদের পিএফ অ্যাকাউন্টে তা জমা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৯
Share:

আসানসোল পুরনিগমের সামনে বিক্ষোভ কর্মীদের। —নিজস্ব ছবি।

আবার পিএফ-বিতর্কে আসানসোল পুরনিগম!

Advertisement

১৩ মাস ধরে পুরনিগমের সাফাইকর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কাটা হয়েছে। কিন্তু জমা পড়েনি। এমনই অভিযোগ করে তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে পুরকর্মীদের। উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ।

আসানসোল পুরনিগমের সাফাইকর্মীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। সকাল থেকে তাঁরা সকলে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে নেমে পড়েছিলেন। পুরনিগমের অফিস চত্বরের সামনে বসে পড়েন অনেকে। মূলত চার দফা দাবিতে তাদের এই বিক্ষোভ চলে। দাবি, মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে। আর চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক শ্রমিক হিসাবে নয়, স্থায়ীকর্মীর মর্যাদা দিতে হবে। সেই সঙ্গে সকলের পিএফ এবং ইএসআই চালু করতে হবে। সেটা যদি ইতিমধ্যে চালু হয়ে থাকে, তার তথ্য দিতে হবে। সকলকে কাজের পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে এবং সাফাইয়ের কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট পোশাক এবং সরঞ্জাম হাতে তুলে দিতে হবে।

Advertisement

বিক্ষোভের মধ্যে আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ করেছেন ওই কর্মীরা। তাঁদের দাবি, দুর্গাপুরে ‘পিএফ অফিসে’ গিয়ে দেখেছেন, কারও টাকা জমা পড়েনি। অথচ গত ১৩ মাস ধরে পিএফের টাকা বলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের ১৩ তারিখ থেকে মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বিক্ষোভের পথ নিয়েছেন। সাফাই বিভাগের মেয়র পারিষদ মানস দাস কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে পুর চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাফাইকর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন, তাঁদের দাবি মানা-না হলে সাফাইয়ের কাজে কেউ যোগই দেবেন না। এই অবস্থায় আসানসোল শহরে সাফাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

সাফাই বিভাগের মেয়র পারিষদ মানস জানান, ​আন্দোলনরত কর্মীদের শীঘ্রই ‘আইডেন্টিটি কার্ড’ দিয়ে দেওয়া হবে। আর পিএফ -এর বিষয়টি নিয়ে অ্যাকাউন্টস বিভাগের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ​বেতন একলাফে ১৫ হাজার টাকা করা এখনই সম্ভব নয়। তিনি জানান, ​কর্মীদের স্থায়ী করার বিষয়টি বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষ এবং এ নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া আছে।

আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বলেন, ‘‘পিএফ-এ টাকা যেটা বকেয়া আছে, সেটা খুব তাড়াতাড়ি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।’’ তাঁর দাবি, কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য পিএফ-এর টাকা জমা পড়েনি। অনেক কর্মীর কেওয়াইসি ঠিকঠাক ছিল না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।

অন্য দিকে, বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘আসানসোল পুরনিগম দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। এখানে এমন কোনও দফতর নেই, যেখানে দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত গরিব সাফাইকর্মীদের সঙ্গেও প্রতারণা করল এই বোর্ড!’’

গত বছরের জুলাইয়ে পিএফ-বিতর্ক সামনে আসে। আসানসোল পুরনিগমের ৩৭০ জন স্থায়ী এবং ৩৬৫৮ জন অস্থায়ী কর্মীর বেতন থেকে টাকা কাটা হলেও তাঁদের পিএফ অ্যাকাউন্টে তা জমা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার সাফাইকর্মীদের পিএফ-বিতর্ক শুরু হল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement