তালিত উড়ালপুলের কাজ চলছে। ছবি: উদিত সিংহ।
তালিতের লেভেল ক্রসিংয়ের উড়ালপুল তৈরি না হওয়ায় ভোটের বাজারে একে অপরকে বিঁধছে তৃণমূল ও বিজেপি। আবা, উড়ালপুলের অনুমোদন মেলা নিয়ে ওই দুই দলই কৃতিত্ব দাবি করতে ছাড়ছে না।
২০১৬-র জুনে বর্ধমানের কাছে তালিতে লেভেল ক্রসিংয়ের উপরে উড়ালপুল নির্মাণের অনুমোদন মেলে। কিন্তু তৈরি হওয়া দূরের কথা, বছর খানেক আগে কাজ শুরু হলেও নানা জটে গতি কমেছে। এখনও উড়ালপুল তৈরি হতে এক-দেড় বছর সময় লাগবে বলে মনে করছে নির্মাণকারী সংস্থা। কাজের গতি না বাড়ায় এলাকাবাসী থেকে পর্যটক, যানবাহন চালকেরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, “ধীর গতিতে কাজ হওয়ার কারণে যানজট হচ্ছে। আবার কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির ফলে রাস্তায় ধুলো হচ্ছে। ভাঙা রাস্তায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে।”
ভোটের বাজারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তালিত রেলগেটের কথা তুলছে। কয়েক দিন আগে বিজেপি বর্ধমান বিভাগের তিনটি জেলা নিয়ে ‘চার্জশিট’ পেশ করে। সে দিন মিঠুন চক্রবর্তী বিজেপি জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ করেছিলেন, “তালিত রেলগেটের উপরে উড়ালপুলের কাজ ধীর গতিতে চলছে। যানজটে মানুষের নাভিঃশ্বাস বাড়ছে।” বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতরের ‘আরওবি’ (রেল ওভারব্রিজ) ইউনিট তালিত রেলগেটের উপরে উড়ালপুল নির্মাণ করছে। কেন্দ্র সরকার সব সহযোগিতা করার পরেও কাজে গতি নেই। অন্য দিকে, তৃণমূলের দাবি, রাজ্য সরকার তালিত রেলগেটের উন্নয়নের জন্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। নানা সমস্যা মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু রেলের তরফে একাধিক বিষয়ে অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ার কারণে কাজ এগোচ্ছে না। বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ চার বার তালিতে উড়ালপুলের কাজ দেখতে এসেছিলেন। তিনি রেলবোর্ডের চেয়ারম্যানকে সরাসরি ফোন করে ও চিঠি দিয়ে কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, “রেলের অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ার কারণেই কাজের গতি ছিল না। আমি উদ্যোগী হওয়ার পরে অনুমোদনের চিঠি রেলবোর্ড থেকে পাঠানো হয়েছে।”
কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতন যাওয়ার সহজ রাস্তা হল, বর্ধমান-বোলপুর রোড। বর্তমানে যা এনএইচ ২বি নামে পরিচিত। এই রাস্তার উপরে দু’টি কাঁটা ছিল। একটি তালিতের রেল গেট, অন্যটি ভেদিয়ায় এক ফুঁকো। এক বার যানজট শুরু হলে কাটতে বেলা গড়িয়ে যেত। ভেদিয়ের উড়ালপুল হয়েছে। কিন্তু তালিতের কাঁটা এখনও বিঁধে রয়েছে। পূর্ত দফতর ও রেল সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-এ একই মেমোতে তালিত আর ভেদিয়ায় উড়ালপুল তৈরির অনুমোদন মিলেছিল। তালিতে জমি-জট দেখা যায়। মোট জমির ৯০% নির্মাণকারী সংস্থার হাতে পেতে চার বছরের বেশি সময় লাগে। তা ছাড়া ১৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বেড়ে হয়য় ২৬১ কোটি টাকা। জমি আর টাকার জট কাটার পরে ২০২৫-র প্রথম দিকে নির্মাণকারী সংস্থা কাজে হাত দেয়। কিন্তু তার পরেও সমস্যা দেখা দেয়। রেলের তরফে জানানো হয়, তালিত রেলগেটে বর্তমানে ছ’টি লাইন রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও চারটি হবে। ‘প্রিমিয়াম’ ট্রেন চলবে। সেই মতো রেললাইন থেকে উড়ালপুলের উচ্চতা বাড়াতে হবে। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করতে হবে সংযোগকারী রাস্তা। ফলে, উড়ালপুলের নতুন করে নকশা তৈরি করতে হয়। অনুমোদনের চাওয়া হয় রেলবোর্ডের থেকে। অনুমোদন পেতে দেরি হয়েছে, দাবি পূর্ত দফতরের।
এ দিকে, কাজ করতে গিয়ে নির্মাণকারী সংস্থা দেখে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তেল ও গ্যাসের পাইপ লাইন রয়েছে সেখানে। ওই সংস্থা পূর্ত দফতর ও রেলকে জানিয়ে দেয়, খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে পাইপ লাইনের ক্ষতি হলে বিপদ হতে পারে। ফলে, পাইপ বাঁচিয়ে কী ভাবে সংযোগকারী রাস্তা তৈরি করা যায়, তা নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। ঠিক হয়েছে, সংযোগকারী রাস্তার উপরে ‘আন্ডারপাস’ তৈরি হবে। তার জন্য রেলবোর্ডের অনুমোদন পেতে পূর্ত দফতরের দেরি হয়েছে। পূর্ত দফতরের আরওবি বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, “বার বার নকশা পরিবর্তনের অনুমোদন নিতে দেরি হয়েছে। সব অনুমোদন মিলেছে। তবে, উড়ালপুল শেষ হতে এখনও এক বছর লাগবে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে