দলের দ্বন্দ্বেরই শিকার চঞ্চল, দাবি পরিজনের

কয়েক মাস আগে পুরবোর্ডের সভায় দলের নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্থা হয়েছিলেন তিনি। তার পরপরই তাঁর হাতে গড়ে ওঠা দলের অফিস দফতর ‘দখল’ করে অন্য গোষ্ঠী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ ০০:৫০
Share:

গ্রেফতারির খবর শুনে চঞ্চলবাবুর পরিবার। নিজস্ব চিত্র।

কয়েক মাস আগে পুরবোর্ডের সভায় দলের নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্থা হয়েছিলেন তিনি। তার পরপরই তাঁর হাতে গড়ে ওঠা দলের অফিস দফতর ‘দখল’ করে অন্য গোষ্ঠী। মাসখানেক আগে দলের গুসকরা টাউন সভাপতি পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে। আর এ বার আউশগ্রাম থানায় হামলায় জড়িত অভিযোগে গুসকরার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূল কাউন্সিলর চঞ্চল গড়াইকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

Advertisement

রবিবার সকালে গুসকরা স্টেশন বাজারে বাড়িতে বসে তাঁর পরিবারের এক সদস্যের অভিযোগ, “যাঁর হাত ধরে বাম দুর্গ বর্ধমানে দলের ফুল ফুটেছিল, তৃণমূলের আমলে তাঁকেই গোষ্ঠী রাজনীতির শিকার হয়ে জেলে যেতে হল!” দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হতে হয়েছে বলে এ দিন আদালতে যাওয়ার পথে দাবি করেন বছর পঁয়ষট্টির চঞ্চলবাবু নিজেও। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গ্রেফতার হয়ে আমার কোনও ক্ষতি হয়নি। গুসকরায় গেলেই বুঝবেন দলের কী হল!”

২০০৮ সালে তাঁর হাত ধরেই গুসকরা পুরসভায় ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তিনি পুরপ্রধান হন। পাঁচ বছর পরে দল ফের জিতে পুরসভায় ক্ষমতায় আসে। তিনিও জেতেন। কিন্তু তাঁকে আর পুরপ্রধান করা হয়নি। তার পিছনেও দলের কোন্দল ছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূল সূত্রে খবর, ২০১৩ সালে সেই পুরভোটের পর থেকেই দলে কোনঠাসা হচ্ছিলেন চঞ্চলবাবু। গত দু’বছর ধরে তাঁর শরীরও ভাল ছিল না। গত বছর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সময় কয়েক দিন কোমায় ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পরে ফের রাজনীতির ময়দানে নামেন।

Advertisement

তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, গুসকরা-আউশগ্রামে চঞ্চলবাবু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব রয়েছে। তাঁদের গুরুত্ব কমাতে অন্য গোষ্ঠীর নেতারা সক্রিয় হন। তাতে দলের বীরভূমের জেলা সভাপতি তথা আউশগ্রামের পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডলের মদত ছিল বলেও অভিযোগ চঞ্চল-ঘনিষ্ঠদের। রবিবার অনুব্রত অভিযোগও করেন, “চঞ্চল গড়াই ও চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের সঙ্গে বৈঠক করে থানায় হামলা চালিয়েছে।”

রবিবার চঞ্চলবাবুকে দু’দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার আউশগ্রামে গিয়ে এক শিক্ষকের বাড়িতে বৈঠক করেন চঞ্চলবাবু। তার পরে চন্দ্রনাথবাবুর সঙ্গে দেখা করে দলীয় দফতরে বসেছিলেন। দুপুরে গুসকরা ফেরেন। চঞ্চলবাবুর স্ত্রী মীরা গড়াই, দিদি শ্যামলী গড়াইদের ক্ষোভ, “যে সারা জীবনে কাউকে চড় মারেনি, সে মাথায় ৩২টা সেলাইয়ের চিহ্ন নিয়ে আর ছ’মাস আগে কোমা থেকে ফিরে থানায় হামলা চালাবে, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?” অনুগামীদের খেদ, বাম আমলেও চঞ্চলবাবুর গায়ে হাত পড়েনি, কিন্তু এই আমলে জেলে যেতে হল।

যদিও গোষ্ঠী রাজনীতির কথা উড়িয়ে তৃণমূলের আউশগ্রাম ১ ব্লক সভাপতি শেখ সালেক রহমান বলেন, “উনি (চঞ্চলবাবু) মানুষকে উস্কানি দিয়েছেন, তাই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।” গুসকরার তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়েরও বক্তব্য, “পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা খুশি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement