—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
তখনও তিনি প্রার্থী হননি। জেলার কয়েকটি পঞ্চায়েতে দলীয় কর্মসূচি ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ সফল করার দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। সেই সময় কয়েকটি চাটাই বৈঠক করে তিনি দেখেন, প্রথম দিকে সব জায়গায় একই মুখ। কয়েক দিন পর থেকে নতুন মুখ বৈঠকে আসতে দেখা যায়। তার পরেই শুরু হয়ে যায় এসআইআর-পর্ব। রবিবার রাতে বিমর্ষ ওই প্রার্থী বলেন, “সবাই এসআইআর নিয়ে মাতামাতি শুরু করে দিল। দলও এসআইআর নিয়ে প্রচার করল। কিন্তু কেউ বুঝল না, যাঁদের ভোটাধিকারই নেই, তাঁদের নিয়ে কান্নাকাটি করে লাভ হচ্ছে না। বরং চাটাই-বৈঠক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধরাও হাতের বাইরে চলে গেল।”
এই অভিজ্ঞতা কমবেশি সব তৃণমূল প্রার্থী থেকে ব্লক স্তরের নেতাদের। তাঁরা মনে করছেন, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ করতে গিয়ে ছোট ছোট পাড়া বৈঠক করার সুযোগ ছিল। সেখানকার মানুষজনদের সঙ্গে কথা বললেই কী হতে পারে বোঝা যেত। কিন্তু সেই কর্মসূচি মাঝপথে বন্ধ করে দিয়ে এসআইআর নিয়ে আন্দোলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেটাই কাল হল দলের।
জামালপুরের এক তৃণমূলের নেতার কথায়, “আমাদের এলাকায় অনেক মতুয়া ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার এলাকায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা। তাঁরা এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। যা মানুষ ভাল ভাবে নেননি।” একই কথা বলছিলেন বর্ধমান পুরসভার এক পুরপ্রতিনিধি। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকা সংখ্যলঘু-অধ্যুষিত। এসআইআরে নাম বাদ পড়া মানুষদের নিয়ে আন্দোলন করেছি। কিন্তু যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, ভোটের মুখে তাঁদের দিকে আমরা তাকাইনি। ভেবেছিলাম, এসআইআরে বিক্ষুব্ধ হয়ে সংখ্যালঘু ভোট সব চলে আসবে। সেটা কিন্তু হয়নি।”
তৃণমূলের বুথস্তরের কর্মীরাও মনে করছেন, এসআইআর নিয়ে প্রচার যত হয়েছে, তৃণমূল সরকার কী কী সুবিধা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে, সেই বার্তা তুলে ধরা যায়নি। লক্ষ্মীর ভান্ডার বাড়লেও নিবিড় প্রচার হয়নি। দলের এক বিজিত মন্ত্রী ভোটের আগে দাবি করেছিলেন, “চাকরি-চুরি, চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ, ডিএ-আন্দোলনের মতো অনেক ক্ষোভ থাকলেও এসআইআর সামনে চলে এসেছে। মানুষ নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকবে।” কিন্তু ফল বেরনোর পর দেখা যাচ্ছে, মানুষ কিন্তু কোনও কিছুই ভোলেনি। সবই মনে রেখে দিয়েছিলেন।
গলসির এক নেতার আক্ষেপ, “গ্রামে গ্রামে রাজ্য সরকারের টাকায় যাঁরা বাড়ি পেয়েছেন, তাঁরাও আমাদের ভোট দিয়েছেন কি না সন্দেহ। কারণ, বাড়ি-প্রাপকরা ভেবেছেন, বাড়ি দিয়েছে বিডিও অফিস। এখানে তৃণমূল দলের কোনও ভূমিকা নেই। ভোটের আগে প্রশাসনের ভোল বদল হওয়ায় ওই বাড়ি-প্রাপকদের মনে সেই ভাবনা আরও জাঁকিয়ে বসেছে।” পূর্ব বর্ধমান জেলায় বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছেন ১,৩৩,৩৪০ জন। আবার পথশ্রী, ‘আপনার পাড়া, আপনার সমাধান’ প্রকল্প থেকেও পাড়ায়, গ্রামে রাস্তার বোর্ড বসেছে। কিন্তু কোথাও কাজ হয়েছে, কোথাও অর্ধেক হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও কোনও কাজই হয়নি। ফলে, মানুষের মনে হয়েছে, কাজ হয়ে গিয়েছে বলে বোর্ড বসেছে। আর টাকা লুট হয়েছে।
তৃণমূলের বর্ধমানের এক পুর-প্রতিনিধি বলেন, “‘আপনার পাড়া, আপনার সমাধানের কাজ’ নিয়ে মনে হয়েছে এলাকায় দুর্নীতি হয়েছে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া পরিবারগুলিও দুর্নীতিকে বড় করে দেখেছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে