মাইথন জলাধারে বাঁধা নৌকা। ছবি: পাপন চৌধুরী।
শীতকালীন পর্যটনের মরসুম বলতে মূলত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। জেলার অন্য জায়গার মতো মাইথনেও পর্যটকদের ভিড় থাকে। এখানে পিকনিক করার পাশাপাশি রয়েছে নৌকা বিহারের সুযোগ। কিন্তু এ বার এই জলাধারের পিকনিক স্পটগুলিতে পর্যটকের ভিড় অন্য বছরের তুলনায় অনেকটাই কম হওয়ায় লাভও খুব একটা হয়নি বলে দাবি নৌকাচালক থেকে ব্যবসায়ী, হোটেল মালিকদের। এ জন্য তাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছেন।
মাইথন জলাধারের জনপ্রিয় পিকনিক স্পটগুলি— থার্ড ডাইক, সিধাবাড়ি, ফায়ারিং রেঞ্জ। নৌকাচালক হাসান আনসারির দাবি, “লোকজন এসেছিল ঠিকই, কিন্তু নৌকাবিহার সে ভাবে করেনি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা, সুন্দর করে সাজানো বসার জায়গা, ছোটদের জন্য পার্ক— এ সবের অভাব নিয়ে পর্যটকেরা অভিযোগ করছিলেন। সেই সঙ্গে ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ার চাপ। আমাদের ৮৬টি নৌকা রয়েছে। এ বার প্রায় ১২ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।” কল্যাণেশ্বরী হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মনোজ তিওয়ারির কথায়, “এ বছর হোটেল ব্যবসা একেবারেই ভাল যায়নি। পিকনিক করতে আসা পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরগুলির তুলনায় অনেক কম। আমাদের ধারণা, চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ মানসিক ভাবে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত। শুনানি, ফর্ম জমা দেওয়া ইত্যাদির কারণে অনেকেই বাইরে ঘুরতে আসতে চাননি।” স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সব মিলিয়ে এ বছর মাইথনের পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতির উপরে প্রভাব ফেলেছে। তবে তাঁদের আশা, আগামী বছরগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে এই জনপ্রিয় গন্তব্য আবার তার পুরনো জৌলুস ফিরে পাবে।
যদিও বিডিও (সালানপুর) দেবাঞ্জন বিশ্বাসের দাবি, “মাইথনে পর্যটকের ভিড় ঠিকই ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সুবিধার্থে যথাসম্ভব ব্যবস্থা করা হয়েছিল।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে