চালু দুই ইউনিট, আশায় ডিপিএল

এ যেন শূন্য থেকে শুরু। রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা ‘দুর্গাপুর প্রজেক্টস লিমিটেড’ (ডিপিএল)-এর উৎপাদন ক্ষমতা নেমে গিয়েছিল শূন্যে। গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কিনে সামাল দিতে হচ্ছিল তাদের। কিন্তু, গত কয়েক দিনে বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

দুর্গাপুর শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০১৫ ০১:৩৭
Share:

দুর্গাপুর প্রজেক্টস লিমিটেড।—ফাইল চিত্র।

এ যেন শূন্য থেকে শুরু।

Advertisement

রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা ‘দুর্গাপুর প্রজেক্টস লিমিটেড’ (ডিপিএল)-এর উৎপাদন ক্ষমতা নেমে গিয়েছিল শূন্যে। গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কিনে সামাল দিতে হচ্ছিল তাদের। কিন্তু, গত কয়েক দিনে বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে চারশো মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন কারখানার কর্মীরা। চাকরি বজায় থাকবে কি না, কিছু দিন আগেও যাঁরা এ নিয়ে সংশয়ে ভুগছিলেন, আজ তাঁদের অনেকেই কী ভাবে উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়, সেই চিন্তায় ব্যস্ত।

গত কয়েক বছরে ডিপিএল নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এসেছে। দুর্গাপুর ও তার আশপাশের এলাকায় শিল্প-সংস্থা ও গৃহস্থালীর বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে ১৯৬০ সালে এই কেন্দ্র চালু হয়। ৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি ইউনিট ছিল শুরুতে। চার বছর পরে ৭৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার দু’টি এবং আরও দু’বছর পরে ৭৭ মেগাওয়াটের আর একটি ইউনিট চালু হয়। ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ষষ্ঠ ইউনিটটি গড়ে ওঠে ১৯৮৭ সালে। ২০০৮ সালের মে মাসে যোগ হয় চিনা সংস্থার তৈরি তিনশো মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সপ্তম ইউনিট। কারিগরি ও বয়স জনিত কারণে প্রথম পাঁচটি ইউনিট বহু আগে থেকেই উৎপাদনহীন। উৎপাদন খরচ বেশি বলে ষষ্ঠ ইউনিটটি চালানো লোকসান। সপ্তম ইউনিটটিও মাঝে-মাঝেই বন্ধ থাকায় ২০১৩ সালের শেষ দিক থেকে বিভিন্ন সময়ে ডিপিএলের উৎপাদন ক্ষমতা শূন্যে নেমে এসেছে। গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কিনে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে সংস্থাটি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৪ সালের জুলাইয়ে আড়াইশো মেগাওয়াটের অষ্টম ইউনিটটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু প্রায় বছর ঘুরে গেলেও নানা কারণে সেটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যায়নি। ও দিকে লাফিয়ে-লাফিয়ে বাড়ছিল সংস্থার লোকসানের পরিমাণ। তার উপরে আবার শাসক দলের কর্মী সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার হতে হয়েছে। এই কেন্দ্রকে বাঁচাতে রাজ্যের অন্য বিদ্যুৎ সংস্থার সঙ্গে ডিপিএলকে মিশিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েছিল সংস্থার পরিচালন সমিতি। কিন্তু সদর্থক সাড়া মেলেনি। সব মিলিয়ে সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন কর্মীরা।

Advertisement

তবে পরিস্থিতি এ বার পাল্টাচ্ছে বলে ডিপিএল সূত্রের খবর। কারখানার ভিতরেও তাই কর্মীদের মধ্যে চনমনে ভাব। সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় মেরামতির পরে সচল হয়েছে সপ্তম ইউনিটটি। গত কয়েক দিন ধরে সেটি নিয়মিত ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ও দিকে, দীর্ঘ টালবাহানার পরে দিন তিনেক আগে চালু করা গিয়েছে অষ্টম ইউনিটটি। দু’টি ইউনিটের মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক সাড়ে পাঁচশো মেগাওয়াট। তবে এখন গড়ে ৪০০ থেকে ৪২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দৈনিক গড় চাহিদা তিনশো মেগাওয়াটের আশপাশে। ফলে, গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার আর প্রশ্নই নেই। উল্টে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠাচ্ছে সংস্থাটি।

কর্মীরা খুশি আরও একটি কারণে। ২০১১ সালের পর থেকে এই সংস্থায় আইএনটিটিইউসি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বারবার বিঘ্নিত হয়েছে কাজের পরিবেশ। নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগেছেন কর্মীদের অনেকে। তাঁদের আশা, এ বার সেই পরিস্থিতিও বদলাচ্ছে। ২৮ মে পূর্ণেন্দু বসুর অনুমোদন দেওয়া আইএনটিটিইউসি-র ‘ডিপিএল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’-এর পালাবদল ঘটে। আলোময় ঘড়ুইয়ের জায়গায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কর্তৃপক্ষের কাছে নাম জমা পড়ে জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বিধায়ক তথা মেয়র অপূর্ব মুখোপাধ্যায়। কার্যকরী সভাপতি হিসেবে আছেন আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি প্রভাত চট্টোপাধ্যায়। নতুন কমিটি নিয়ে আলোময়বাবু বা তার অনুগামীদের তরফে কোনও প্রতিবাদ এখনও নজরে আসেনি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অনুমোদন দেওয়া ‘ডিপিএল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফেও কোনও সাড়া-শব্দ মেলেনি। অপূর্ববাবুর দাবি, ওই সংগঠনের পদাধিকারীরাও চলে এসেছেন নতুন কমিটিতে। কর্মীদের আশা, ডিপিএলে আর আইএনটিটিইউসি-র দ্বন্দ্ব দেখতে হবে না। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্তবাবু বলেন, ‘‘কাজের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং কর্মী সংগঠনের অযথা হস্তক্ষেপ বন্ধ করাই লক্ষ্য। ডিপিএলকে দাঁড় করাতে একযোগে লড়াই চালিয়ে যাব।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন