প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সওয়াল-জবাব শুরু হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরের গোড়াতেই। অবশেষে মঙ্গলবার কাটোয়া ছোট রেল থেকে নামিয়ে বিধবা মহিলাকে ধর্ষণের সেই মামলার সওয়াল-জবাব শুরু হল।
এ দিন কাটোয়া ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বিচারক কাজী আবুল হাসেমের এজলাসে দুপুর ১২টা নাগাদ সওয়াল জবাব শুরু হয়। প্রথমেই সরকারি আইনজীবী কাঞ্চন মুখোপাধ্যায় বক্তব্য পেশ করতে উঠে পুরো ঘটনাটি বলেন। ধাপে ধাপে ন্যারোগেজ কি, কীর্ণাহার থেকে অভিযোগকারী তাঁর মেয়েকে নিয়ে কখন ট্রেনে উঠেছিলেন, তারপরে কেতুগ্রামের পাঁচুন্দি ও গোমাই স্টেশনের মাঝে অভিযুক্তেরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ট্রেনটিকে দাঁড় করায়, সঙ্গে থাকা দুল, টাকাপয়সা ছিনতাই করতে না দেওয়ায় ট্রেনের ভেতরে মেয়ের সামনেই অভিযোগকারিনীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, সেখান থেকে ওই মহিলাকে নামিয়ে ট্রেন লাইনের পাশে একটি ঝোপে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করা হয় — সবই জানান তিনি। জানান, এক জন ধর্ষণ করলেও আরও দুই অভিযুক্ত কাছেই ছিল। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে অভিযোগকারী মহিলা শারীরিক ভাবে কোনও বাধা দিতে পারেননি। আইনজীবী কাঞ্চনবাবুর দাবি, গোটা ঘটনা ঘটার সময় ট্রেনের যাত্রীরা নিশ্চুপ ছিল। মেয়ের মাথায় বন্দুক ধরা হয়েছিল। শুধু তাই নয় ধর্ষণে বাধা দিলে তাঁর ১১ বছরের মেয়েকেও ধর্ষণ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। কাঞ্চনবাবু বলেন, ‘‘মেয়েকে ধর্ষণ করার হুমকি দিলে এক মায়ের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া কী উপায় আছে? যেখানে গোটা ট্রেনের যাত্রীরা কার্যত ভয়ে গুটিয়ে ছিল।’’ এরপরে কাঞ্চনবাবু এক জন ধর্ষিতাকে সমাজে কী কী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়, নানা ভাবে হেনস্থা হতে হয়, সে কথা জানান। কথার মাঝপথেই অভিযুক্তদের আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় উঠে আদালতকে বলেন, আইনের চেয়ে আবেগ বেশি হয়ে যাচ্ছে। বিচারক অবশ্য তাতে কান দেননি।
এর আগে টিআই প্যারেডের সময়েই মূল অভিযুক্ত রেজাউল মির্জাকে চিনিয়ে দিয়েছিলেন অভিযোগকারিনী ও তঁার মেয়ে। পরে মহিলার পেটিকোটে বীর্যের নমুনা পাওয়া গিয়েছিল বলেও জানায় ফরেন্সিক ল্যাব। যদিও প্রশ্নোত্তর পর্বের দিন অভিযুক্ত রেজাউল দাবি করেছিলল, সে নির্দোষ। শুক্রবার ফের সওয়াল-জবাব হওয়ার কথা।