দুর্গাপুরে কল্পতরু উত্‌সব

ছন্নছাড়া ভাব কাটিয়ে জমে উঠল মেলা

পরিচালন কমিটির দখল ঘিরে আইএনটিটিইউসি-র দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের প্রথম দিকে খানিকটা ছন্নছাড়া ভাব ছিল। তবে তা কাটিয়ে উঠে বেশ জমে গিয়েছে দুর্গাপুরের কল্পতরু মেলা। পরিচালন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলোময় ঘরুই সোমবার বলেন, “প্রথম দিকে কিছু স্টল ফাঁকা ছিল। এখন তা আর নেই। দুর্গাপুর ও লাগোয়া এলাকার প্রচুর মানুষ মেলায় ভিড় জমিয়েছেন।”

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০১৫ ০০:২১
Share:

স্টল ভরে উঠতেই দেদার ভিড় হচ্ছে উত্‌সবে। সোমবার গ্যামন ব্রিজে তোলা নিজস্ব চিত্র।

পরিচালন কমিটির দখল ঘিরে আইএনটিটিইউসি-র দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের প্রথম দিকে খানিকটা ছন্নছাড়া ভাব ছিল। তবে তা কাটিয়ে উঠে বেশ জমে গিয়েছে দুর্গাপুরের কল্পতরু মেলা। পরিচালন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলোময় ঘরুই সোমবার বলেন, “প্রথম দিকে কিছু স্টল ফাঁকা ছিল। এখন তা আর নেই। দুর্গাপুর ও লাগোয়া এলাকার প্রচুর মানুষ মেলায় ভিড় জমিয়েছেন।”

Advertisement

গ্যামন ব্রিজ লাগোয়া মাঠে ১ জানুয়ারি থেকে প্রতি বছর মেলা বসে। এ বার মেলার প্রায় সাড়ে পাঁচশো স্টলে পসরা সাজিয়ে বসেছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। মেলায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, বরাবরের মতো বড় আকারে বসেছে কৃষি মেলা। মূল মেলার পাশে বসেছে বইমেলা। বিভিন্ন শিল্প ও কর্পোরেট সংস্থাও স্টল দিয়েছে এই মেলায়। এ ছাড়া আর পাঁচটি বড় মেলার মতো গৃহস্থালীর সামগ্রী থেকে শুরু করে জামাকাপড়, নানাবিধ খাবারের দোকানসবই রয়েছে। অন্ডাল থেকে পানাগড়, নানা জায়গা থেকে আসছেন মানুষজন। ভিড় সামলাতে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কোকওভেন থানার পুলিশও রয়েছে। সন্ধ্যায় থাকছে নানা অনুষ্ঠান। এ ছাড়া এ বারের বিশেষ আকর্ষণ একটি এক টাকার মুদ্রার উপরে কয়েক হাজার মুদ্রা সাজিয়ে গড়া ‘টাওয়ার’। হুগলির দাসপাড়ার শিল্পী চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, একটি মাত্র মুদ্রার উপরে থরে থরে ২২ হাজার পর্যন্ত মুদ্রা সাজিয়ে ‘টাওয়ার’ গড়তে পারেন। এ ছাড়া সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে মেলা কমিটি বিকেলে ঘণ্টা তিনেক বিনামূল্যে মহিলাদের জন্য নাগরদোলা চড়া এবং খুদেদের জন্য ‘প্লে-জোন’ উপভোগের ব্যবস্থা রেখেছিল।

বৃহস্পতিবার মেলা শুরুর আগে আইএনটিটিইউসি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মেলা কমিটি থেকে সরে যান সংগঠনের নেতা দেবদাস মজুমদার। সংগঠনের অন্য গোষ্ঠীর নেতা অমর মন্ডল তার পরে জানিয়ে দেন, তাঁদের সব পক্ষ একজোট হয়ে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। তবু উদ্বোধনের পরে দেখা গিয়েছিল, বহু স্টল ফাঁকা, অনেক স্টল অসম্পূর্ণ। মেলায় আসা মানুষজন অভিযোগ করেন, অন্য বারের মতো মেলা জমেনি। তবে রবিবার রাত থেকে পরিস্থিতি পাল্টায়। সোমবারও বেশ ভিড় ছিল। দেবদাসবাবুর জায়গায় মেলা পরিচালন কমিটির দায়িত্ব নেওয়া আইএনটিটিইউসি কর্মী আলোময়বাবু বলেন, “রাত পর্যন্ত মিনিবাস ও অটো চালু রাখার আর্জি জানানো হয়েছে প্রশাসনকে। তার পরেও দরকার হলে মানুষজনকে মেলা কমিটির গাড়িতে করে নিকটবর্তী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।” মেলা চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement