পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজে দরপত্র জমা দিতে গিয়ে বাধা পেয়েছিলেন ঠিকাদারেরা। বিডিও-র কাছে অভিযোগও জানান তাঁরা। তদন্তে বেশ কিছু গরমিল পেয়ে কাঁকসার গোপালপুরের ওই দরপত্রগুলি বাতিলের নির্দেশ দিলেন বিডিও।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তা সারাই থেকে নিকাশির নানা কাজের জন্য ছ’টি দরপত্র ডাকা হয়েছিল। আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল ৪০ লক্ষ টাকা। সেই মতো একাধিক ঠিকাদার দরপত্রের কাগজ তুলে জমা দিতে যান পঞ্চায়েতের কার্যালয়ে। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর দরপত্র জমা দিতে গিয়ে তাঁরা বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। ঠিকাদারদের দাবি, পঞ্চায়েত কার্যালয়ের কাছাকাছি যেতেই তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। কয়েকজন যুবক ধাক্কাধাক্কি করে বের করেন দেন তাঁদের। নিগ্রহের অভিযোগও করেন তাঁরা। ঠিকাদার মনতোষ পালের দাবি, দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পঞ্চায়েতে তা জমা দিতে গেলে এলাকার কয়েকজন তাঁদের উপর চড়াও হন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ মনোনীত ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার জন্য অন্য ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দিয়েছিল বলেও তাঁদের দাবি। তিনি বলেন, ‘‘দরপত্র জমা দিতে না পেরে কাঁকসার বিডিও-র কাছে অভিযোগ জানাই।’’
ঠিকাদারদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে ব্লক দফতর। যুগ্ম বিডিওকে দায়িত্বদেওয়া হয়। সেই তদন্তে বেশ কিছু গরমিল ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে ব্লক প্রশাসন। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬টি কাজে দরপত্র ডাকা হয়েছিল। তার দুটি ছিল আইএসজিপি-র অন্তর্গত। বাকিগুলি পঞ্চায়েতের অন্য তহবিলের কাজ। তদন্তে উঠে আসে, কোনও দরপত্রে মাত্র তিন জন ঠিকাদার জমা দিয়েছিলেন। আবার বেশ কিছু ঠিকাদার অভিযোগ করেন, দরপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গিয়েও তা জমা নেওয়া হয়নি। সব দিক দেখে দরপত্র সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গরমিল ধরা পড়ে। কাঁকসার বিডিও অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, পাঁচটি কাজের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। আর একটির দরপত্র ঠিক আছে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন করে দরপত্র ডাকতে বলা হয়েছে ওই পঞ্চায়েতকে।’’ গোপালপুর পঞ্চায়েতের প্রধান অর্পিতা ঢালি জানান, যা ঘটেছে সবই পঞ্চায়েতের বাইরে। বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানেন না তিনি। অর্পিতাদেবীর দাবি, ‘‘বিডিও-র তরফে আমাদের কাছে পুরনো দরপত্রগুলি বাতিল করার নির্দেশ এসেছে। নতুন করে দরপত্র ডাকা হবে।’’