ভাগীরথী ঘেঁষা প্রাচীন শহর ক্রমে আধুনিক হচ্ছে। বাড়ছে আড়েবহরে। কিন্তু প্রশাসনের চোখের সামনে বেদখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাথ। ফলে বাড়ছে যানজট। ঘিঞ্জি হচ্ছে শহর। সমস্যা সমাধানের জন্য শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চলেছে মহকুমা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
কালনা মহকুমার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল কালনা শহর। এই শহরেই রয়েছে মহকুমা শাসকের কার্যালয়, আদালত, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, মৎস্য দফতরের মত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। রয়েছে স্কুল ও কলেজ। বিভিন্ন প্রয়োজনে মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই মানুষ আসেন এই শহরে। কিন্তু রাস্তায় নিয়মিত যানজট হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের মধ্যে তেতুঁলতলা, পুরনো বাসস্ট্যান্ড চত্বর, কলেজ মোড়, চকবাজার-সহ শহরের বহু এলাকাতেই বেদখল ফুটপাথ হয়ে গিয়েছে। এই সব এলাকায় কোথাও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসেন। আবার কোথাও ফুটপাথ দখল করে চলছে অবৈধ নির্মাণ। স্থানীয় গৃহবধূ পূর্ণিমা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সকাল হোক কিংবা বিকেল, রাস্তায় বড় লরি ঢুকে যাওয়ার পরেই যানজট বাড়ে। প্রতি দিন সমস্যায় পড়তে হয় ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরও যানজটের কারণে নাকাল হতে হয়। সবথেকে বেশি সমস্যা হয় চৈত্র সেলের সময়ে। এই সময়ে রাস্তা দখল করে ব্যবসা করার প্রবণতা থাকে সবথেকে বেশি। ফলে ফুটপাথ না থাকায় রাস্তা দিয়েই হাঁটতে বাধ্য হন মানুষ। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভবনাও বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা রামদুলাল ঘোষের ক্ষোভ, “সম্প্রতি শহরকে ঢেলে সাজাবার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন মেলাও হচ্ছে। কিন্তু শহরের ফুটপাথগুলিকে দখলমুক্ত করার তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।”
যদিও প্রশাসনের দাবি, এই সমস্যা সমাধানের জন্য তারা উদ্যোগী হয়েছেন। ফুটপাথে বেআইনি দখলের কথা স্বীকার করে পুরসভার চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ কুণ্ডু বলেন, “ফুটপাথ দখলমুক্ত করার বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই এই বিষয়ে পুরসভা ধীরে ধীরে পদক্ষেপ করবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে মহকুমা প্রশাসনকে একটি বৈঠক ডাকতে বলা হয়েছে।” কালনার মহকুমাশাসক সব্যসাচী ঘোষ বলেন, “খুব শীঘ্রই বৈঠকটির দিন ঘোষণা করা হবে। সেখানে পুলিশ, পূর্ত দফতর, পুরসভা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের ডাকা হবে। ওই বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে একমত হয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।”
তবে ফুটপাথ পরিষ্কারের নামে যাতে অমানবিক ভাবে হকার উচ্ছেদ করা না নয়, সেই দাবিতে সরব হয়েছে কালনা শহর হর্কাস ইউনিয়ন। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই শহরে একটি মিছিল করা হয়েছে। মহকুমা শাসককে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। হকার সংগঠনের নেতা ইন্দ্রনীল বসুর দাবি, “কালনায় বহু সাধারণ মানুষ রয়েছে যাঁরা ফুটপাথের গায়ে ছোট্ট দোকান করে সংসার চালায়। তাঁদের উচ্ছেদের আগে ভাল পুর্নবাসন দিতে হবে।”
হকারদের সঙ্গে সহমত হয়ে কালনা শহরের ফুটপাথ কতখানি দখলমুক্ত হয় এখন সেটাই দেখার।