স্কুল পরিদর্শকের দফতরে বৈঠকের মাঝে কথা কাটাকাটি।—নিজস্ব চিত্র।
সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি মানা না হলে বদলি করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে জেলা স্কুল পরিদর্শককে (মাধ্যমিক) চিঠি দেওয়ার অভিযোগ উঠল খণ্ডঘোষের এক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সুমন্ত্র চৌধুরী নামে ওই শিক্ষক চিঠিতে নিজেকে শিক্ষা সেলের নেতা বলে দাবি করেছেন। চিঠি পাওয়ার পরে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের দুই গোষ্ঠীকে নিজের দফতরে ডেকে বৈঠকও করেন জেলা স্কুল পরিদর্শক খগেন্দ্রনাথ রায়। বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জেলা স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল খণ্ডঘোষের সরঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাডে টিচার-ইন-চার্জের সই ও স্ট্যাম্প দেওয়া একটি চিঠি জেলা স্কুল পরিদর্শককে (মাধ্যমিক) পাঠানো হয়। তাতে লেখা রয়েছে, ‘আমি সরঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক। আমাদের স্কুলের এএইচএম (সহকারী প্রধান শিক্ষক)-এর অনুমোদন দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে। আমরা ওই পোস্টে সহশিক্ষক মুন্সি সিরাজুল ইসলামকে বসাতে চাই। আপনি ওই পোস্ট অনুমোদনের জন্য যা করণীয় তা করবেন।’ পরে চিঠিতেই হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘তা না হলে আপনাকে, যেখান থেকে এসেছেন, পুনরায় সেখানে পাঠিয়ে দেব। জানেন তো আমরা শিক্ষা সেলের নেতা।’ যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই সুমন্ত্রবাবু এ দিন স্কুল পরিদর্শকের কাছে ওই চিঠি দেখে অবাক হয়ে যান। তিনি খগেন্দ্রবাবুকে বলেন, “চিঠিতে সই জাল করা হয়েছে। তদন্ত হওয়ার প্রয়োজন।” ওই শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনের এক নেতা অনুপ ভট্টাচার্যও দাবি করেন, “চক্রান্ত করে ওই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তার উপর আমাদের এক নেতার সঙ্গে সংগঠনের সভাপতি অভব্য আচরণ করেছেন। বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছি।”
স্কুল পরিদর্শকের সঙ্গে বৈঠকে তর্কাতর্কির কথা মেনে নিয়ে সংগঠনের জেলা সভাপতি রথীন মল্লিক বলেন, “ওই স্কুলে আমাদের কোনও সংগঠন নেই। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের হয়ে যাঁরা স্কুল দফতরে এসেছিলেন, তাঁরা সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যও নন। খগেন্দ্রবাবুকে পুলিশে অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিষয়টি শুধু খগেন্দ্রবাবুর নয়। এর সঙ্গে সংগঠন জড়িয়ে রয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে।” স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) খগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “দফতর ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানাব। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”