রায়নায় অভিযুক্ত তৃণমূল

সিপিএম সমর্থকের শাড়িতে টান

ধর্মঘটে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র না খোলায় মহিলা কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সিপিএম সমর্থক স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তৃণমূলের লোকজন বাজারের মধ্যে স্ত্রীর শাড়ি খুলে নেয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:১৩
Share:

ধর্মঘটে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র না খোলায় মহিলা কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সিপিএম সমর্থক স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তৃণমূলের লোকজন বাজারের মধ্যে স্ত্রীর শাড়ি খুলে নেয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

শুক্রবার সকালে বর্ধমানে রায়নার মাধবডিহি থানায় গিয়ে দম্পতি জানান, আগের দিন বিকেলে স্থানীয় লোহাই বাজারে ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু মাধবডিহি থানার পুলিশ গা করেনি বলে অভিযোগ মহিলার। শুক্রবার দুপুরে বর্ধমান শহরে জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে এসে তাঁরা লিখিত অভিযোগ জানান।

বুধবার সিটু-সহ বেশ কিছু শ্রমিক সংগঠনের ডাকে ধর্মঘটে অচল হয়ে গিয়েছিল রাজ্যের বেশির ভাগ অংশ। বৃহস্পতিবার সাইকেলে নিয়ে কাজে যাচ্ছিলেন ওই সিপিএম কর্মী। খানিক বাদে স্কুটি নিয়ে আসছিলেন তাঁর স্ত্রী। তাঁদের অভিযোগ, নলে গ্রামের বাড়ি থেকে কিছুটা যাওয়ার পরে লোহাই বাজারের কাছে তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ভাঙচুর করা হয় সাইকেল। ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছে যান তাঁর স্ত্রী। তাঁকেও মারধর করে শাড়ি খুলে নেওয়া হয়।

Advertisement

মহিলার অভিযোগ, তৃণমূলের অচিন্ত্য পাঁজার নেতৃত্বে হামলা হয়। তাঁর হার ছিনিয়ে নেওয়া হয়, পাঁচ হাজার টাকাও নিয়ে নেওয়া হয়। পরে আশপাশের দু’এক জন বয়স্ক মানুষ এসে তাঁর গায়ে শাড়ি জড়িয়ে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আবাক দাবি করেছেন, সকালে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ওই মহিলার সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের কথা কাটাকাটি হয়। ধর্মঘটের দিন কেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খোলা হয়নি, তার কৈফিয়ত চেয়ে মারধরও করা হয় তাঁকে। শাড়ি ধরে টানাটানি করা হয়। বাড়ি ফিরে স্বামীকে ঘটনাটি বলেন তিনি। দুপুরে স্বামী-স্ত্রী ফের ওই এলাকায় গেলে বচসা বাধে। ফের তাঁদের মারধরও করা হয়।

অন্য দিকে, সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উদয় সরকার আবার দাবি করেন, ‘‘ওই সিপিএম কর্মী ধর্মঘটের দিন গ্রামে দলের পতাকা তোলায় তাঁকে মারধর করে তৃণমূলের লোকেরা। বাজারে তাঁর স্ত্রীর শাড়ি খুলে নেওয়া হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাঁর গায়ে শাড়ি জড়িয়ে দেন।’’ দম্পতি জানান, গ্রামে থাকতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। তাই আপাতত বর্ধমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন।

Advertisement

তৃণমূলের রায়না ২ ব্লকের সভাপতি আনসার আলি যদিও ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘‘মহিলার শ্লীলতাহানি ও নিগ্রহের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানানো। এই ঘটনার সাথে আমাদের দলের কেউ যুক্ত নয়। ওঁদের কেউ মারধরও করেনি।’’ তাঁর পাল্টা দাবি, তৃণমূলের পার্টি অফিসে সিপিএম পতাকা টাঙাচ্ছিল। তাই নিয়েই বচসা হয়।

পুলিশ সুপার কুণাল অগ্রবাল জানান, ছ’জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement