(বাঁ দিকে) জাহাঙ্গির খান। শুভেন্দু অধিকারী (ডান দুকে)। নিজস্ব চিত্র।
‘‘ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম। যত অভিযোগ করেছে সাধারণ নির্বাচনের সময়, সবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেখব না। কোথায় পুষ্পা, কোথায় আপনি? দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ১৯ জনকে নটোরিয়াস ক্রিমিনাল ঘোষণা করেছিল মানবাধিকার কমিশন। তার মধ্যে ভাইপোর জাহাঙ্গির ছিল। ওর ব্যবস্থা করব। আমার উপর ছেড়ে দিন সেই দায়িত্ব।’’
‘‘আমরা বলি না, চার তারিখের পর ডিজে বাজবে। আমাদের রাজ্য সভাপতি বলেন, অভিনন্দন যাত্রা করুন। অনিচ্ছুকের গায়ে আবির দেবেন না। এটাই বিজেপি।’’
‘‘আগে আমি দলের কর্মী। মানুষের কাজ এবং দলের কাজ, দুটোই আমার কাজ। ১৯ তারিখ আমি ১১টার সময় পৌঁছোব। ৫টা অবধি ঘুরব। যাঁরা মার খেয়েছেন, তাঁদের রাখবেন, বয়স্কদের প্রণাম করব। ছোটদের কোলাকুলি করব।’’
‘‘অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারার কথায় যাঁরা প্রমাণ লোপাট করেছেন, আগের হেরো মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যাঁরা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা সাসপেন্ড। এখানেও ছাড়া হবে না। ডায়মন্ড হারবার পুলিশদের বলেছি, কল রেকর্ডস, হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট জমা দিতে হবে। ভাইপোর পিএ-এর কথায় যাঁরা ডায়মন্ড হারবার, ফলতার মানুষদের উপরে অত্যাচার করেছেন, আমি— শুভেন্দু অধিকারী— সব বার করব।’’
‘‘মাননীয় ভাইপোবাবু, কাল পুরসভা থেকে তথ্য আনলাম। কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। পুলিশকে বলেছি খাতা-পেন নিয়ে বসুন। যত অভিযোগ হয়েছে, পদক্ষেপ করুন। কোনও গুন্ডা এলাকায় থাকবে না।’’
‘‘মাননীয় ভাইপোবাবু, কাল পুরসভা থেকে তথ্য আনলাম। কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে।’’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর।
ফলতার জন্য স্পেশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ হবে। ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি জানান, অনেকেই সেখানে বহুদিন ভোট দিতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘‘অনেকে বললেন, ভাইপো যত দিন এসেছেন, তত দিন ভোট দিতে পারিনি। গত ১০ বছর ফলতা বিধানসভার ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এর হিসাব হবে না?’’
শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। এই পুনর্নির্বাচনে শুধু দেবাংশুকে জেতানো নয়, মোট ভোটার ২ লক্ষ ২৫ হাজার। এক লক্ষ ভোটে দেবাংশুকে জিতে পাঠাবেন।’’
ফলতায় সভা শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ফলতার পুনর্নির্বাচনের জন্য ভোটারদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তিনি। আগামী ২১ মে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে জয়যুক্ত করতে ভোটারদের আবেদন জানালেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে হয়েছিল। পরে সেটি একটি রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন হয়েছিল। পুলিশের মঙ্গল কতটা হয়েছে জানি না। কিন্তু শান্তনু সিংহ বিশ্বাস, বিজিতেশ্বর রাউতদের মতো অফিসারদের সুবিধা হয়েছে। আজ থেকে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিলাম।’’
শুভেন্দু অধিকারীর সভার আগে ফলতা বিধানসভায় বিজেপির বুথকর্মী সম্মেলন হয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন সুনীল বনসল, অমিত মালবীয়দের মতো কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও।
ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করতে যাওয়ার পথে ডায়মন্ড হারবার স্টেশন বাজারের সামনে জমায়েত হওয়া কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎপ্রার্থী তৃণমূলের এক বিধায়ক। ডায়মন্ড হারবারের সদ্য নির্বাচিত পান্নালাল হালদার পৌঁছে যান জেলা প্রশাসনের দফতরে। ভিতরে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী। পান্নালাল দাঁড়িয়ে বাইরে। প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, ‘‘আমি তো দেখা করতে এসেছি।’’ শুরু হয়ে গিয়েছে দলবদলের চর্চা।
ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার আগে নিউ টাউনে অভিনেতা-নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘মিঠুন চক্রবর্তী দেখা করতে চেয়েছিলেন। আপনার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী আপনার কাছে এসেছে। বিজেপি জয়ের নেপথ্যে কারিগর মিঠুনদা।’’ মিঠুন বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর মতো ভাল মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে না।’’ এর পর তিনি বলেন, ‘‘শপথ নেওয়ার পর থেকেই ভাল কাজ করছেন শুভেন্দু অধিকারী।’’
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। দুপুরে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করছেন। ওই জেলার সমস্ত থানার পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। অনুপ্রবেশ ইস্যু থেকে ভোট-পরবর্তী হিংসা, একাধিক বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারেন বর্তমান পুলিশমন্ত্রী।