পুলিশ জটেই আটকে নির্ঘণ্ট

বুধবার এ প্রসঙ্গে দফায় দফায় নবান্নের সঙ্গে কমিশনারের টেলিফোনে আলোচনা হলেও কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। আর সেই জটেই আটকে গিয়েছে ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ০৫:২৬
Share:

রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিংহ। ফাইল চিত্র।

পঞ্চায়েত ভোট সুষ্ঠু ভাবে করাতে রাজ্য সরকার যত পুলিশ দিতে পারবে বলে জানিয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিংহ। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার এ প্রসঙ্গে দফায় দফায় নবান্নের সঙ্গে কমিশনারের টেলিফোনে আলোচনা হলেও কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। আর সেই জটেই আটকে গিয়েছে ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণা।

Advertisement

কমিশনকে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, কমিশনার চাইছেন, সেই আলোচনা শুরুর আগে রাজ্য তাঁকে সবিস্তার জানাক, কত পুলিশ দিতে পারবে তারা। সেই হিসেব হাতে পেয়ে তিনি রাজনৈতিক দলগুলিকে ডাকবেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটগ্রহণের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবেন। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে যে হিসেব রাজ্য দিয়েছে, তাতে কিছু ধোঁয়াশা রয়েছে বলে কমিশনের এক মুখপাত্র জানান। আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন কমিশনার। কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, ভোটের দিন ঘোষণা করে ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টে রিপোর্ট দেওয়ার কথা।

সূত্রের খবর, নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা জানিয়ে বুধবার রাজ্য পুলিশের ডিজি চিঠি দিয়েছেন কমিশনে। রাজ্য পুলিশ ছাড়াও প্রয়োজনে কলকাতা পুলিশকে ব্যবহার করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। রাজ্য পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘রাজ্যের হাতে যা পুলিশ আছে, তা দিয়ে অবাধে ভোট করানো সম্ভব।’’

Advertisement

নবান্নের যুক্তি, জেলাওয়াড়ি বুথের হিসেব না পেলে পুলিশের সংখ্যা স্পষ্ট করা সম্ভব নয়। কমিশনের পাল্টা বক্তব্য, নিরাপত্তারক্ষীর হিসেব চূড়ান্ত না করে দফার বিন্যাস করা সম্ভব নয়। কমিশন মনে করছে, রাজ্য এখন যে ভাবে এক বা দু’দফায় ভোট শেষ করতে চাইছে, তাতে সব বুথে পর্যাপ্ত সশস্ত্র পুলিশ দেওয়া যাবে না।

তাই রাজ্য এখন এক বা দু’দফায় ভোট করার উপরে জোর দিলেও তিন দফায় ভোট করাতে চায় কমিশন। রাজ্যের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশন সূত্র বলছে, এর আগে রাজ্যই তিন দফায় ভোট করাতে চেয়েছিল। সূত্রের খবর, আজ রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

এ-হেন পরিস্থিতির মধ্যে এ দিন দুপুর থেকে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন রমজান মাসে ভোটের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে কমিশনারকে চিঠি দেন। সংগঠনগুলির বক্তব্য, ‘‘রমজান মাসে ভোট হলে মুসলিমরা অসুবিধায় পড়বেন।’’ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের নেতৃত্ব জানান, রমজান মাসে ভোট হলে ফের আদালতে যেতে পারেন তাঁরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement