জোর যার: বন্দুক কাঁধে অবাধ যাতায়াত। বুধবার মালদহের রতুয়ায়। নিজস্ব চিত্র
ভোটের দিন এলাকা জুড়ে দাপাদাপি করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চাঁচল মহকুমার ২৬টি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ দিনও কয়েকটি জায়গায় দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। অভিযোগ, এই সব দুষ্কর্ম চলে পুলিশের গলায় হাঁসুয়া ও বন্দুক ঠেকিয়ে। এ দিনই আবার উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানায় ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি।
চাঁচল মহকুমায় এ দিন ২৬টি বুথে পুনর্নির্বাচন ছিল। তার মধ্যে রতুয়ার সাতটি এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের একটি বুথ থেকে ব্যাপক দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যের অভিযোগ আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ দিনও বাখরা বুথে ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেক পরেই বন্দুক নিয়ে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। এক পুলিশ অফিসারকে অস্ত্র দেখিয়ে ওই দুষ্কৃতীরা ব্যালট বাক্স-সহ প্রিসাইডিং অফিসারকে তুলে একটি আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ছাপ্পা ভোটের পর ফের ব্যালট বাক্স বুথে রেখে যায় তারা।
রতুয়ার বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতেও চারটি বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার ১২ নম্বর পশ্চিম রতনপুর বুথে প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের বিদায়ী প্রধান রুদলি চৌধুরি। প্রধানের দুই ছেলের নেতৃত্বে সেখানে বিহারের একদল দুষ্কৃতী গুলি ছুড়ে, বোমাবাজি করে ব্যালট বাক্স নিয়ে ছাপ্পা ভোট শুরু করে বলে অভিযোগ। যদিও রুদলি চৌধুরি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই ভাবে রতুয়ার বাহিরকাপ ও সূর্যাপুরের বুথে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নুর বলেন, ‘‘প্রশাসনকে জানিয়েও ফল হচ্ছে না। ফলে আমরা আদালতে যাচ্ছি।’’ জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেছেন, ‘‘রতুয়ায় কোথাও ছাপ্পা ভোট বা সন্ত্রাস হয়নি।’’
আরও পড়ুন: সকালেই পৌঁছে গিয়েছিল রাজ্যপালের রিপোর্ট, তার পরেই হিংসা নিয়ে চড়া স্বর প্রধানমন্ত্রীর
উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে জমি দখলের ঘটনায় প্রাণ হারান মহম্মদ তসিরুদ্দিন। পরিবারের দাবি, কেন তিনি ফব-কে ভোট দেননি, এই প্রশ্ন তুলে জমি দখল করতে এসেছিলেন ফব-র লোকজন। বাধা দিতে গেলে গুলিতে মৃত্যু হয় তসিরুদ্দিনের। ফব-র চাকুলিয়ার বিধায়ক আলি ইমরান রমজ বলেন, ‘‘ওটা তৃণমূল বনাম তৃণমূল।’’ তৃণমূলের গোয়ালপোখর ব্লকের সভাপতি গোলাম রসুলের পাল্টা দাবি, ‘‘এটা ফব-রই কীর্তি।’’