স্বপন কামিল্যা।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুন ও অপহরণের মামলায় বিধাননগর এসিজেএম আদালতে প্রথম চার্জশিট পেশ করেছে বিধাননগর পুলিশ। এই ঘটনায় চার্জশিটে নাম রয়েছে ধৃত রাজু ঢালি, তুফান থাপা, সজল সরকার, বিবেকানন্দ সরকার এবং গোবিন্দ সরকারের। পুলিশ সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের গোড়ায় চার্জশিট জমা পড়েছে আদালতে।
যদিও এই মামলায় সর্বাধিক আলোচিত যিনি, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সেই অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে চার্জশিটে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিনিই এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত।
গত ২৯ অক্টোবর নিউ টাউনের যাত্রাগাছি খালপাড় এলাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩১ অক্টোবর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে খুন, অপহরণ, চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে লেখা হয়, ২৮ অক্টোবর দু’টি গাড়িতে চেপে পাঁচ-ছ’জন ব্যক্তি সল্টলেকের দত্তাবাদে একটি সোনার দোকানে গিয়েছিলেন। তাঁরা স্বপন এবং গোপাল বাগ নামে দু’জনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে এক জন নিজেকে বিডিও প্রশান্ত বর্মণ বলে জানিয়েছিলেন। এর বেশ কিছু সময় পরে গোপাল ফিরে এলেও স্বপন ফেরেননি। পরের দিনও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যেরা থানায় গেলে জানা যায়, নিউ টাউনের যাত্রাগাছি এলাকা থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ব্যক্তিকেই স্বপন বলে শনাক্ত করেন পরিবারের লোকেরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা বর্তমানে জেল হেফাজতে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, চুরি, তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে অপসারিত বিডিও-র নাম আদালতে জানিয়েছিল পুলিশ। যদিও সেই সময়ে মূল অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা গ্রেফতার না করায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ঘটনাচক্রে, এর পরে বারাসত জেলা ও দায়রা আদালতে সেই অভিযুক্ত আগাম জামিনের আবেদন করেন। ওই আবেদন মঞ্জুরও করে আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আগাম জামিনের নির্দেশ বাতিল করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত বিডিও-কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সময় পার হলেও অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করেননি। এর পরে বিধাননগর আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ওই অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে অভিযুক্ত প্রশান্তকে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেন অভিযুক্ত। কারণ, তিনি আত্মসমর্পণ করেননি।
পুলিশ সূত্রের খবর, চার্জশিটে সেই সব কথার উল্লেখ রয়েছে। অভিযুক্তকে পাওয়া না যাওয়ায় তদন্তের সেই অংশ অসমাপ্ত। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়া হতে পারে। যদিও এখনও ওই অভিযুক্তকে চার্জশিটে পলাতক দেখানোয় সাক্ষীদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে বলে তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এখনও কেন ওই অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পুলিশের দাবি, তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি ও নজরদারিও জারি রয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে