—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আসন্ন অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ৭৮টি বৃহৎ আবাসিক বহুতলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এই আবাসনগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে বুধবার কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন।
বর্তমানে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকার পুনর্বিন্যাস চলছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংশোধনের ফলে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও হ্রাস পাবে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘৭৮টি বড় আবাসিক কমপ্লেক্স চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হবে। সংশোধনের পর ভোটার সংখ্যা কমলে বুথের সংখ্যাও স্বাভাবিক ভাবেই কমবে।”
কমিশনের দাবি, বহুতল আবাসনে বসবাসকারী ভোটাররা দূরে বুথ থাকায় ভোট দিতে যান না। বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এক আধিকারিক বলেন, ‘‘অভিজ্ঞতা বলছে, ভোটকেন্দ্র দূরে হলে অনেকেই ভোট দিতে আসেন না। বড় আবাসনের ভিতরে বুথ হলে ভোটদান আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে।” এর আগে সাতটি জেলায়, কলকাতা-সহ ৬৯টি বহুতলে বুথ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। বুধবার কমিশন জানায়, সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৮টি করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর জেলাভিত্তিক বিভাজন জানা যাবে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে কমিশনকে চিঠি দিয়ে এই উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, যে সব আবাসনে ৩০০-র বেশি নথিভুক্ত ভোটার রয়েছেন, সেখানেই কেবল এই ধরনের বুথ তৈরি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরেও অনেক বহুতল রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই যেখানে ভোটার সংখ্যা ৩০০-র বেশি। তাই কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা জেনে খুশি বিজেপি নেতৃত্ব।
আবাসনের ভিতরে ভোটকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। শহরের বেহালা পশ্চিমের এক আবাসনের বাসিন্দার দাবি, এই উদ্যোগ ভোটদানের হার বাড়াতে সহায়ক হবে এবং প্রবীণ ও কর্মব্যস্ত নাগরিকদের জন্য তা বিশেষভাবে উপকারী পদক্ষেপ হতে পারে।