সারদা-নারদ নিয়ে লড়াই ছাড়ল বিজেপি

সারদা কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি-র নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংহ একদা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘ভাগ মমতা ভাগ’’! বিজেপি-র সেই কটাক্ষে তেলেবেগুনে চটেছিল তৃণমূল। পরে বিধানসভা ভোটের সময় সারদা-র পাশাপাশি নারদ কাণ্ড নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ভোট শেষ তো সব শেষ!

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:২৫
Share:

সারদা কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি-র নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিংহ একদা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘ভাগ মমতা ভাগ’’! বিজেপি-র সেই কটাক্ষে তেলেবেগুনে চটেছিল তৃণমূল। পরে বিধানসভা ভোটের সময় সারদা-র পাশাপাশি নারদ কাণ্ড নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ভোট শেষ তো সব শেষ! সারদা-নারদ কোনও কাণ্ডেরই চূড়ান্ত কিনারা না হলেও তা বেমালুম ভুলে গেল বিজেপি!

Advertisement

নিউ আলিপুরে শনিবার থেকে বিজেপি-র দুদিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সেখানে তিন পৃষ্ঠার যে রাজনৈতিক প্রস্তাব এ দিন পেশ হয়েছে, তাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই এ বার অমিল সারদা-নারদ প্রসঙ্গ। শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে এই দুই ঘটনা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি। ফলে দলের মধ্যে থেকেই যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দিলীপ ঘোষরা। তেমনই এ ঘটনাকে বিজেপি-তৃণমূল আঁতাত হিসাবে দেখছেন বাকি বিরোধী দলগুলি। আব্দুল মান্নান-সুজন চক্রবর্তীদের মতে, কেন্দ্রে মোদী সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যসভায় বিল পাশ করানোর তাগিদে তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে বিজেপি। এক দিকে জিএসটি সহ যাবতীয় বিলে সমর্থন জানাচ্ছে তৃণমূল, প্রতিদানে আবার কেন্দ্রের সরকারও সারদা-নারদ কাণ্ডের তদন্ত নিয়ে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে সিবিআই তদন্ত কিংবা নারদ কাণ্ড নিয়ে সংসদীয় নীতি কমিটির তদন্ত উভয়ই রহস্যজনক ভাবে থমকে গিয়েছে!

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য বিরোধীদের তত্ত্ব খারিজ করে এ দিন বলেন, ‘‘সারদা এবং নারদ-কাণ্ড এখন আইনি পর্যায়ে চলে গিয়েছে। তাই ওই বিষয় এখন রাজনৈতিক প্রস্তাবে রাখা হয়নি। কিন্তু আগে আমরা এই দুই বিষয়েই অনেক আন্দোলন করেছি।’’

Advertisement

রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যও হাস্যকর বলে মনে করছেন বিজেপি-র একাংশ নেতা। তাঁদের অভিযোগ, শুধু সারদা বা নারদ কেলেঙ্কারিই নয়, কোনও বিষয়েই এখন দল আন্দোলন করছে না। দিলীপবাবু যদিও এ দিন উদ্বোধনী ভাষণে বলেছেন, ‘‘লড়াই করতে হবে। তবেই মানুষ বুঝবে বিজেপি তাদের পাশে আছে।’’ কিন্তু দলেরই একাধিক নেতার কথায়, এগুলো সবই কথার কথা। বৈঠকের নিয়মমাফিক নির্দেশ। কিন্তু ভোটের পর দল কোন আন্দোলন করেছে? দলীয় কর্মীদের তো রাস্তাতেই দেখা যাচ্ছে না! তাঁদের বক্তব্য, এত দিন জিএসটি বিল পাশ করানোর বাধ্যবাধকতা থাকায় দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে পারছিল না। এখন সেই দায় মিটে গিয়েছে। তবুও আন্দোলন নেই। স্বাভাবিক ভাবেই এতে বিরোধীদের তোলা তৃণমূল-বিজেপি আঁতাতের তত্ত্ব গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement