দলছুটদের ফেরানোর ইঙ্গিত বিজেপি-র

রেলশহরের দলছুট কাউন্সিলরদের দলে ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেন বিজেপির রাজ্য সহ- সভাপতি সুভাষ সরকার। বুধবার মেদিনীপুরে এসে এক প্রশ্নের উত্তরে তাঁর দাবি, “পুরভোটের পর যে সব কাউন্সিলর দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের আজও সম্পর্ক রয়েছে।”

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০১৫ ০১:০১
Share:

বক্তব্য রাখছেন সুভাষ সরকার। —নিজস্ব চিত্র।

রেলশহরের দলছুট কাউন্সিলরদের দলে ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেন বিজেপির রাজ্য সহ- সভাপতি সুভাষ সরকার। বুধবার মেদিনীপুরে এসে এক প্রশ্নের উত্তরে তাঁর দাবি, “পুরভোটের পর যে সব কাউন্সিলর দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের আজও সম্পর্ক রয়েছে।” তবে কি দলছুট কাউন্সিলরদের ফের দলে ফেরাবে বিজেপি? সুভাষবাবুর জবাব, “অপেক্ষা করুন। সময়ই কথা বলবে।” প্রাথমিক ভাবে বিজেপির পর্যবেক্ষন, কাউন্সিলরদের কেউই নিজের ইচ্ছায় দলত্যাগ করে তৃণমূলে নাম লেখাননি। তাঁদের তৃণমূলে নাম লেখাতে বাধ্য করা হয়েছে। সুভাষবাবুও বলেন, “ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছে। কাউন্সিলরদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের লোকজনদেরও ভয় দেখানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এ জেলার পুলিশ সুপারকে দিয়ে এ কাজ করিয়েছেন।” তাঁর মন্তব্য, “যে ভাবে তৃণমূল খড়্গপুরে পুরবোর্ড গড়েছে তাকে মানুষ সমর্থন করছেন না। শহরের মানুষ তৃণমূলের নিন্দা করছেন।” দলত্যাগের পর রেলশহরের চার কাউন্সিলরের প্রাথমিক সদস্যপদ খারিজ করে দেয় বিজেপি। এক কাউন্সিলরের সক্রিয় সদস্যপদও খারিজ করা হয়।

Advertisement

বুধবার মেদিনীপুর শহরে বিজেপির এক কর্মী- প্রশিক্ষণ শিবির হয়। শিবিরে উপস্থিত থাকতেই শহরে আসেন বিজেপির রাজ্য সহ- সভাপতি সুভাষ সরকার। ছিলেন শ্যামাপদ মণ্ডল, তুষার মুখোপাধ্যায়রা। মাস কয়েক আগেই দলের সদস্যসংগ্রহ অভিযান হয়েছে। এ দিন সেই নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের আলোচনা হয়। পরে ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গেও আলাদা ভাবে বৈঠক করেন সুভাষবাবুরা। লোকসভা ভোটের সময় বিজেপির পালে যে হাওয়া উঠেছিল, তা অনেকটাই এখন থিতিয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় নতুন- পুরনোদের কোন্দল সামনে আসতে শুরু করেছে। রেলশহরে দলের ভাঙন তো আবার দলের মধ্যে বিদ্রোহের আগল খুলে দিয়েছে। শিবিরে সংগঠন বাড়ানোর উপরই জোর দেন রাজ্য নেতৃত্ব। ব্লক নেতৃত্ব নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা জানান। জেলা নেতৃত্বও সাংগঠনিক সমস্যার কথা জানান। পুরভোটের পর রেলশহরে গেরুয়া- শিবির কার্যত শূন্যে এসে ঠেকার পর দলের জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। দলের নীচুতলার কর্মী- সমর্থকদের একাংশ ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেন। প্রশ্ন ওঠে, প্রার্থী বাছাইয়ের সময় কেন আরও সতর্ক হল না দল? পুরনো কর্মীদের ব্রাত্য রেখে কেন টিকিট দেওয়া হল নতুনদের? এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কংগ্রেস যেখানে দলের ভাঙন ঠেকাতে পারল, সেখানে বিজেপি পারল না কেন?

দলের এক সূত্রে খবর, সপ্তাহ কয়েক ধরে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ার পর এ দিন শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের সামনেই সুর চড়ান বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়। তুষারবাবুর বক্তব্য, রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা জেলা পায়নি। ফলে, সব পরিস্থিতির মোকাবিলা করে ওঠা সম্ভব হয়নি। কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা আসছে, তা শুধু এই জেলায় নয়, অন্য জেলায়ও রয়েছে। নেতৃত্বের উচিত, সঠিক সময় সঠিক দিশা দেওয়া। জেলায় যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা।

Advertisement

খড়্গপুর নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত দ্রুত শেষ করারও দাবি জানান তিনি। তুষারবাবু অবশ্য প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ। খড়্গপুর নিয়েও কি রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি? বিজেপির জেলা সভাপতির জবাব, “সাংগঠনিক শিবির ছিল। সাংগঠনিক ব্যাপারে আলোচনা তো হবেই। যা বলার বৈঠকে বলেছি।” বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুভাষবাবুর পরামর্শ, দলের মধ্যে অনুশাসন আনতে হবে। জনসংযোগ বাড়াতে হবে। আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। শিবির শেষে তিনি বলেন, “এ জেলার পুলিশ সুপার তৃণমূল দলের সভাপতির মতো কাজ করছেন। তৃণমূল- বিরোধী সব দলকে উত্‌পীড়ন করছেন। শিবিরের এই ভিড় প্রমাণ করে দিয়েছে, উত্‌পীড়ন করে জনতার শক্তিকে আটকে রাখা যায় না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement