BJP in Dimond harbour

নেই ‘ভূতের’ তাণ্ডব, অভি-গড়েও ভোটে লাফ বিজেপির

বহু বুথে কারচুপি ধরা পড়ায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা আসনে ভোট বাতিল করতে হয়েছে কমিশনকে।

রাজীব চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ০৮:৩৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত সাতগাছিয়া বিধানসভা আসনটি এ বার ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বিধানসভা ভোটের ফলাফল বলছে, অভিষেক-গড়ে জনসমর্থন বেশ কিছুটা বাড়িয়ে নিয়েছে পদ্ম শিবির। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ মনে করছে, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ যেতেই রাজ্যের অনেক জায়গার মতো ডায়মন্ড হারবারেও তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের ব্যবধান কমেছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির জন্য এ বার বুথে ‘ভূতুড়ে ভোটারদের’ তাণ্ডব দেখা যায়নি। তার প্রতিফলন পড়েছে ইভিএমে। ভোট নিয়ে বিরোধীদের বড় কোনও অভিযোগও ছিল না।

বহু বুথে কারচুপি ধরা পড়ায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা আসনে ভোট বাতিল করতে হয়েছে কমিশনকে। সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে আগামী ২১ মে। ফলপ্রকাশ ২৪ মে। বিধানসভা ভোটের ফলাফল বলছে, ফলতা বাদে অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাকি ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি মোট ৪ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৮০টি ভোট পেয়‌েছে। ওই ৬টি কেন্দ্রের সবক’টিতেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বিজেপির ভোট। গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় (ফলতা বাদে) অভিষেকের গড়ে এ বার বিজেপি এক লক্ষ ১০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক পেয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ ভোট। তাঁর জয়ের ব্যবধান নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। পরাজিত বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস ভোটে কারচুপির অভিযোগে মামলা করেছেন। সেই মামলা এখনও চলছে।

এ বার কেন এমন ফল? তৃণমূলের যাদবপুর-ডায়মন্ড হারবার জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর মতে, “গোটা রাজ্যের মতো ডায়মন্ড হারবারেও তীব্র মেরুকরণ কাজ করেছে। ডায়মন্ড হারবারে উন্নয়ন নিয়ে কোনও অভিযোগ ছিল না। শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, এ বার আমাদের লড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গেও।” আর অভিজিতের বক্তব্য, “আমরা বারবার বলেছি, ছাপ্পা ভোটে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী। এখন তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে!”

ফলতা বাদে ডায়মন্ড হারবার লোকসভার বাকি ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৫৮ ভোট। দেখা যাচ্ছে, এ বারের নির্বাচনে ওই ৬টি কেন্দ্রে তৃণমূল পেয়েছে সব মিলিয়ে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার ৭২১টি ভোট। অর্থাৎ, ওই কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূলের ভোট কমেছে প্রায় এক লক্ষ ৩০ হাজার।

অভিষেকের কেন্দ্রের অন্তর্গত ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা আসনে গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বার বিজেপির ভোট বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ওই বিধানসভা আসনে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৪৩ হাজার ১৭৬টি ভোট। এ বার পেয়েছে ৮৮ হাজারের বেশি ভোট। বজবজ কেন্দ্রের ছবিটাও একই রকম। বিষ্ণুপুরে বিজেপির ভোটবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ হাজারের বেশি। সাতগাছিয়া কেন্দ্রে প্রায় ৩৬ হাজার ভোট বাড়িয়েছে বিজেপি। ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিশ্বর নস্কর ৪০১ ভোটে হারিয়েছেন তৃণমূলের সোমাশ্রী বেতালকে। প্রসঙ্গত, এই কেন্দ্রের ভোট গণনা চলাকালীন কারচুপির অভিযোগ পেয়ে গণনা-কেন্দ্রে গিয়েছিলেন অভিষেক। তাঁকে দেখেই স্লোগান দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। কার্যত বাধ্য হয়েই ফিরে আসতে হয় অভিষেককে। বিজেপির দাবি, এ বার বহু সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বুথেও তারা আগের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে।

ভোটবাক্সে ক্ষয় অব্যাহত বাম শিবিরেও। গত লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে বামেরা ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে ৮৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল। এ বার আইএসএফ ও সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে (ফলতা বাদে) বাকি ৬টি কেন্দ্রে তারা পেয়েছে ৭৫ হাজারের কিছু বেশি ভোট।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন