Samik Bhattacharya

‘ভাল তৃণমূল’ সংশয় ঢাকতেই কি শমীকের ‘এক তৃণমূল’-বার্তা

সাম্প্রতিক অতীতে শমীক তাঁর ‘ভাল তৃণমূল’ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও, বিষয়টি নিয়ে চর্চা সপ্তমে উঠেছিল। প্রকাশ্যেই ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৭:২০
Share:

শমীক ভট্টাচার্য। — ফাইল চিত্র।

রাজ্যে পালাবদলের পরে এবং তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায় ‘ভাল তৃণমূল’ শব্দবন্ধটি উঠে এসেছিল। এই নিয়ে বিজেপির অন্দরে তোলপাড় পড়ে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়ক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূল সাংসদদের সূত্রে তাঁদের অনুগামীদের আবার এলাকায় প্রত্যাবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই আবহে শমীক এ বার স্পষ্ট করে দিলেন, তৃণমূলে ভাল বা খারাপ বলে কিছু হয় না। সব ‘একটাই তৃণমূল’! রাজ্য সভাপতির এই অবস্থানে আপাত ভাবে ‘স্বস্তি’র ছবি ধরা পড়েছে স্থানীয় স্তরের বিজেপির কর্মীদের মধ্যে।

সাম্প্রতিক অতীতে শমীক তাঁর ‘ভাল তৃণমূল’ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও, বিষয়টি নিয়ে চর্চা সপ্তমে উঠেছিল। প্রকাশ্যেই ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এমন আবহে যাঁদের বিরুদ্ধে এত লড়াই, তাঁরাই ফের ‘দাদাগিরি’ করবেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয় স্তরে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়। তৃণমূলে মুষল-পর্বের অভিঘাতে সেই আশঙ্কা আরও গাঢ় হয়, যখন দেখা যায়, স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের যে লোকজন ভোটের ফলের পরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন, তাঁরাই ফের স্বমহিমায় ফিরছেন। সূত্রের খবর, সেই সময়ে দলের কাছে এই নিয়ে অভিযোগও জানিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের শীর্ষ স্তর থেকে তখন মৌখিক ভাবে ওই কর্মীদের বলা হয়, কাউকেই বিজেপিতে নেওয়া হবে না। বড় জোর মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি নেওয়া হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘আত্মবলিদান দিবস’ পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার কাদাপাড়ার কাছে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করতে গিয়ে শমীক তাঁর ও দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছেন, “(তৃণমূলের) যাঁরা যা-ই বলুন, যা-ই করুন, তাঁরা সবাই তৃণমূল। মানুষ ওঁদের একটাই তৃণমূল হিসাবে চেনেন। তৃণমূলের ভাল, খারাপ বলে কিছু হয় না। এ আসলে নতুন বোতলে পুরনো মদ।” শমীকের সংযোজন, “অন্ধ সিপিএম বিরোধিতা থেকে তৃণমূলের জন্ম। সিপিএমকে সরিয়ে দেওয়ার পরে কী করবে, কোথায় যাবে, তা নিয়ে কোনও কর্মসূচি ছিল না তৃণমূলের। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিয়ম মেনেই তৃণমূল বিলুপ্তির পথে। ভবিষ্যতে তৃণমূলের জায়গা হবে ইসলামিক ইতিহাসে।” রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের ব্যাখ্যা, ওই মন্তব্যের মাধ্যমে বিদ্রোহী ও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকে আদতে এক বন্ধনীতে রেখেই দেখা হচ্ছে বলে কর্মীদের বার্তা দিতে চেয়েছেন শমীক। সেই সঙ্গে, ‘ভাল তৃণমূল’ তত্ত্বের প্রেক্ষিতে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে যে সংশয়, আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা-ও নিরসনের চেষ্টা করলেন শমীক।

এরই মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ-স্মরণে এ দিন নানা কর্মসূচি নিয়েছেন বিজেপির তাবড় নেতৃত্বকে। সকালে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও শমীক। পরে হাজরা মোড়ে দলের যুব মোর্চার রক্তদান শিবিরেও ছিলেন তাঁরা। শমীক বলেছেন, “শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন বলে আজ আমরা কলকাতায় দাঁড়িয়ে নিজেদের ভারতীয় পরিচয় দিতে পারছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন