—প্রতীকী চিত্র।
এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তিন জন সাংসদ রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আগামী দিনে আরও কয়েক জন ইস্তফা দিতে পারেন বলে জল্পনা চলছে। তবে আরও আসন খালি হওয়ার আগে রাজ্যসভার এই তিনটি আসনে উপনির্বাচন হয়ে যেতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের খবর।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অঙ্ক হল, রাজ্যসভার তিনটি আসনে উপনির্বাচন হলে বিধানসভার সমীকরণ মেনে তিনটিই বিজেপি জিতবে। কিন্তু রাজ্যসভার চারটি আসনে উপনির্বাচন হলে তখন আবার একটি তৃণমূল কংগ্রেস জিততে পারে। কারণ, বিজেপির যেমন বিধানসভায় ২০৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, তেমনই তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক রয়েছেন। এই অঙ্ক মেনে রাজ্যসভার চারটি আসনে নির্বাচন হলে একটি তৃণমূলের পাওয়ার কথা। যদিও তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যে এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলেই দাবি করেছেন। বিধানসভায় বিরোধী দল হিসেবেই ভূমিকা পালন করবেন বলে খাতায়-কলমে জানিয়েছেন। ফলে সরাসরি তাঁদের পক্ষে বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থীকে ভোট দেওয়া সমস্যার হতে পারে।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যে প্রথম সুখেন্দুশেখর রায় সাংসদ পদ ও দল থেকে ইস্তফা দেন। তার পরে সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক ইস্তফা দিয়েছেন। প্রকাশের ইস্তফার পরে দশ দিন কেটে গেলেও আর কেউ ইস্তফা দেননি। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যসভায় আসা তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যে এক জন ইস্তফা দেবেন বলে জল্পনা ছিল।
সূত্রের খবর, শাসক শিবির প্রথমে সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশের আসনে উপনির্বাচন চাইছে। এই তিনটি আসনের মধ্যে দু’টি আসনে সুখেন্দুশেখর ও প্রকাশকে বিজেপিই ফের রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে। সুস্মিতাকে অসমে বিজেপির রাজনীতিতে নতুন কোনও ভূমিকায় দেখা যাবে বলে খবর। ওই আসনে বিজেপির সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ বা শুভেন্দু অধিকারীর আস্থাভাজন কোনও নেতা রাজ্যসভায় আসতে পারেন। তিন জনের কেউই অবশ্য এখনও বিজেপিতে যোগ দেননি।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হারের পরে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া সাংসদেরা তৃণমূল ছেড়েছেন। বিদ্রোহী বিধায়কেরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। অন্য দিকে লোকসভায় কুড়ি জন বিদ্রোহী সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও তাঁদের এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর না দিলেও তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের ওয়টস্যাপ গ্রুপ থেকে তাঁদের বার করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে