গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ষষ্ঠ প্রার্থীর সম্ভাবনা ঊহ্য রেখেই রাজ্যসভা নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র তৈরির কাজ শুরু করে দিল তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষই। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। তার পরেই তৎপর হয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল পরিষদীয় দল। আগেই দু’পক্ষের বিধায়কদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বৃহস্পতিবার থেকে মনোনয়নপত্র তৈরির কাজ শুরু হবে। তাই বৃহস্পতি, শুক্র ও আগামী সোমবার তিন দিন ধরে বিধায়কদের রাজ্যসভার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে স্বাক্ষর করে যেতে হবে। মনোনয়নপত্র তৈরি হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দলের রাজ্যসভার প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেবেন বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাসের কাছে, তিনিই এই রাজ্যসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুই পরিষদীয় দলের ঘরে একে একে বিধায়কেরা এসে প্রস্তাবক হিসাবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে গিয়েছেন। নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক থাকায় সকাল সকাল মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, রথীন ঘোষ, চন্দ্রনাথ সিংহ, বাবুল সুপ্রিয়, বঙ্কিম হাজরারা মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে যান। এ ছাড়াও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পলাশীপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য নাকাশিপাড়ার বিধায়ক কল্লোল খাঁ, নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে, বরাহনগরের বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার তৃণমূল পরিষদীয় দলের ঘরে এসে রাজ্যসভার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে যান। কত জন প্রার্থীর জন্য মনোনয়নপত্র তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নের কোনও জবাব দিতে চাননি তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ।
রাজ্যসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর মনোনয়নপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বিজেপি-র পরিষদীয় দলের ঘরেও। আরামবাগের বিধায়ক মধুসূদন বাগ, কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক সুকুমার দে, কাঁথি উত্তরের বিধায়ক সুমিতা সিংহ, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহা মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে গিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা কোনও ‘ডামি’ প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিজেপি পরিষদীয় দলের কোনও সদস্য। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এর আগে দু’টি রাজ্যসভার আসন পেয়েছে বিজেপি। দু’টি ক্ষেত্রেই এক জন করে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়েছিল তারা। সে ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি ছিল, কোনও কারণে স্ক্রুটিনি পর্বে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেলে, ‘ডামি’ প্রার্থী যাতে লড়াই করতে পারেন, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তবে বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গৃহীত হওয়ার পর ওই ‘ডামি’ প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
ষষ্ঠ প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, এ বিষয়ে নিজেদের রণনীতি খোলসা করতে চায়নি কোনও পক্ষই। এই রাজ্যসভা নির্বাচনে চার জন তৃণমূল প্রার্থী এবং এক জন বিজেপি প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত। এই পাঁচ জন প্রার্থী ছাড়া যদি অতিরিক্ত কোনও প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করেন, তবেই ১৬ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়।