নবান্নের সামনে বাড়ি তৈরির শর্ত খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নবান্নের সামনে বাড়ি তৈরির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তিনটি শর্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। প্রশাসন জানিয়েছিল, নতুন বাড়িতে নবান্নের দিকে মুখ করে কোনও জানলা রাখা যাবে না। ছাদে কমপক্ষে ১০ ফুটের পাঁচিল তুলতে হবে। বারান্দা বা অন্য কোনও খোলা অংশও রাখা যাবে না, যেখান থেকে নবান্ন দেখা যায়। এই শর্তগুলি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। বলা হয়েছে, এগুলি ‘অযৌক্তিক এবং অবাস্তব’।
নবান্ন রাজ্য সরকারের সচিবালয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর রয়েছে। এই ভবনের নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকায় বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রেও বাড়তি কিছু শর্ত মানতে হয়। নবান্নের সামনে ক্ষেত্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় লেনে এক ব্যক্তি পাঁচ তলা বাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। হাওড়া পুরসভার কাছে বাড়ির পরিকল্পনা জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন চান তিনি। অভিযোগ, তখনই তাঁকে পুলিশের ১৭টি শর্ত ধরানো হয়। তাতে বলা হয়, নবান্নমুখী কোনও জানলা বাড়িতে রাখা যাবে না। থাকবে না বারান্দা বা কোনও খোলা অংশও। ছাদে নবান্নের দিকে পাঁচিলের উচ্চতা হতে হবে অন্তত ১০ ফুট। আরও বলা হয়, নতুন তৈরি বাড়িতে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের পুলিশি যাচাইকরণ পদ্ধতির মুখোমুখি হতে হবে। সকলের পরিচয় পুলিশ যাচাই করবে। নবান্ন সংলগ্ন এলাকা নিরাপত্তা অঞ্চলের (সিকিউরিটি জ়োন) মধ্যে পড়ে। সেই কারণেই এই শর্তগুলি মানতে হবে বলে জানায় পুরসভা।
বাড়তি শর্তের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের বিজ্ঞপ্তিকে ‘ঢাল’ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছিল, নবান্ন সংলগ্ন অঞ্চলে বাড়ি করতে গেলে নির্মাণে বিশেষ কিছু নিয়ম মানতে হবে। নির্দিষ্ট এই শর্তগুলি চ্যালেঞ্জ করে জমির মালিক কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর পক্ষে মামলাটি লড়েছেন আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী। মামলাকারীর প্রশ্ন, আইন অনুযায়ী এই ধরনের শর্ত কি কোনও বাড়ির উপর চাপানো যায়? কী ভাবে বাড়ি তৈরি করা হবে, তা কি প্রশাসন ঠিক করে দিতে পারে?
হাই কোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চে বুধবার মামলাটির শুনানি ছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও এলাকার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শর্তাবলি আইনের সীমার মধ্যে রাখতে হবে। আইনের বাইরে কোনও শর্ত দেওয়া যাবে না। ছাদে ১০ ফুটের দেওয়াল তৈরি করতে গেলে বাড়ির প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস বন্ধ হয়ে যাবে। জানলা বা বারান্দার নির্মাণ নিষিদ্ধ করাও অবাস্তব, অমানবিক। এতে আবাসিকদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই শর্তকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। বাসিন্দাদের পুলিশি যাচাইকরণ পদ্ধতিকে ‘সবচেয়ে কঠিন শর্ত’ বলা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, কে বাড়িতে থাকবেন, তা নির্ধারণ করা পুরসভার কাজ নয়। এতে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়। এটা আইন বিরোধী।
এই তিনটি শর্ত খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বলা হয়েছে, নতুন করে বাড়ির পরিকল্পনা (বিল্ডিং প্ল্যান) তৈরি করে পুরসভায় আবেদন করতে হবে নির্মাতাদের। ১২ সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।