—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভিন্ রাজ্যের এক শিল্পপতি দম্পতিকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের তিন অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিবিআইয়ের মুম্বই শাখা। সূত্রের খবর, ২০২২ সালে পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে একটি গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই তিন অফিসার মুম্বইয়ে গিয়ে ওই দম্পতিকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ। সিবিআই সূত্রের দাবি, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন এক শীর্ষকর্তা (যিনি রাজনৈতিক ভাবেও প্রবল প্রভাবশালী ছিলেন) এবং রাজ্য সিআইডির এক পদস্থ কর্তার নির্দেশেই এই টাকা হাতানো হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। তিনজনের বয়ানও নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
একটি সূত্রের দাবি, ওই দু’জন শীর্ষকর্তার মধ্যে একজন বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত এবং অন্যজন কর্মরত। তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত পুলিশ কর্তাকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়েছেন। নোটিস যেতে পারে বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ওই শীর্ষকর্তার কাছেও।
সিবিআই সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া তিন অফিসারের মধ্যে একজন ঘটনার সময় রানিগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর ছিলেন। বাকি দু’জনের একজন সিআইডি এবং অন্যজন রাজ্য এসটিএফে কর্মরত ছিলেন। এর আগেও তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ বার তাঁদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় তাঁরা কোন মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড ব্যবহার করেছিলেন, তা-ও চিহ্নিতকরা হয়েছে।
সিবিআই সূত্রের দাবি, ২০২২ সালে রানিগঞ্জে একটি গাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে রানিগঞ্জ থানা। সে সময় মুম্বইয়ের বাসিন্দা ওই শিল্পপতি নথি দিয়ে পুলিশকে জানান যে ব্যবসায়িক কারণে টাকা পাঠাচ্ছিলেন তিনি।
অভিযোগ, তার পরেও এই তিন অফিসার তদন্তের নামে ওই শিল্পপতিকে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। এমনকি, ওই তিনজন মুম্বইয়ে একটি হোটেলে ডেরা বেঁধে ওই শিল্পপতি এবং তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ।
দীর্ঘদিন হয়রান করার পরে ওই শিল্পপতিদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলেও সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই শিল্পপতি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে