Suvendu Adhikari and Chanchal Police Station

প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য! শুভেন্দুকে হাজিরার নোটিস দিল চাঁচল থানা

সম্প্রতি রাজনৈতিক সফরে মালদহ জেলায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই এক সভায় তিনি প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০১
Share:

(বাঁ দিকে) প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে হাজিরা নোটিস দিল মালদহ জেলার চাঁচল থানা। প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা বর্তমানে তৃণমূল নেতা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে এই নোটিস ধরানো হয়েছে। চিঠিটি হাতে পেয়েছে বিরোধী দলনেতার বিধানসভার দফতর। এর পরেই তারা আইনি পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছে বলেই বিজেপি পরিষদীয় দল সূত্রে খবর। সম্প্রতি রাজনৈতিক সফরে মালদহ জেলায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখানেই এক সভায় তিনি প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী প্রসূনকে আক্রমণ করেছিলেন। সেই সভায় করা মন্তব্যের ভিত্তিতেই বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, মালদহ জেলার চাঁচল থানার তরফে নন্দীগ্রামের বিধায়কের উদ্দেশে একটি আইনি নোটিস জারি করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী এই নোটিস পাঠানো হয়েছে তদন্তের স্বার্থে হাজিরা দেওয়ার জন্য। নোটিসে উল্লেখ, এফআইআর নম্বর ০৪/২৬ (তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২৬) মামলার তদন্তে তাঁর কাছ থেকে ঘটনার প্রাসঙ্গিক তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। উক্ত মামলায় বিএনএসের-এর ১৯২, ১৯৬, ২৯৯, ৩০২, ৩৫২ ও ৩৫৬ ধারায় অভিযোগ রুজু হয়েছে। নোটিসে জানানো হয়েছে, নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে শুভেন্দুকে চাঁচল থানায় উপস্থিত হয়ে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা দিতে হবে। তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে, সত্য তথ্য প্রদান করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ পেশ করতে হবে।

এই নোটিসে গ্রেফতারির কোনও আশঙ্কা নেই বলেই জানাচ্ছে মালদহ জেলা পুলিশের একটি সূত্র। এটি মূলত জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জারি করা একটি আইনসম্মত হাজিরা নোটিস। নোটিস পাঠিয়েছেন চাঁচল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মহম্মদ মনিরুল ইসলাম। পুলিশের তরফে দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জারি করা এই নোটিস প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ। তবে এই নোটিস পাওয়ার পর আইনি পর্যালোচনা শুরু করেছে বিজেপি পরিষদীয় দল। কারণ, ডিসেম্বর ২০২২-এ কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দুর পক্ষে একটি অন্তর্বর্তী সুরক্ষা নির্দেশ জারি করেছিলেন। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্য পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও এফআইআর নথিভুক্ত করতে বা কোনও রকম কঠোর পদক্ষেপ (কারেসিভ অ্যাকশন) করতে পারবে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কার প্রেক্ষিতেই এই রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল বলেই মনে করা হত। তবে ২ অক্টোবর ২০২৫-এ বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সেই সার্বিক সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নেয়। আদালত জানায়, কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনির্দিষ্ট কাল বহাল রাখা যায় না এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সকলের জন্য সমান নিয়ম প্রযোজ্য। ফলে এখন থেকে রাজ্য পুলিশ আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নতুন মামলা রুজু ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করতে পারবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে, রাজনৈতিক হেনস্থার অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণ-সহ নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে আদালতে তোলা যেতে পারে, কিন্তু সার্বিক (ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন) দীর্ঘ দিন ধরে চলতে পারে না। কলকাতা হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই চাঁচল থানা নোটিসটি পাঠিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

এ বিষয়ে বিজেপি পরিষদীয় দলের ব্যাখ্যা, সম্প্রতি চন্দ্রকোনায় বিরোধী দলনেতার উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে শাসকদল তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। সেই ঘটনার পর চন্দ্রকোনা থানায় গিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। সেই আক্রমণের ঘটনার পর এতগুলো দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আর কোনও এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে শুভেন্দুবাবু কী মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে অতি দ্রুততার সঙ্গে নোটিস জারি করা হল! এর থেকেই বোঝা যায় তৃণমূল পরিচালিত সরকারের দৈন্যদশা। আইনগত ভাবেই এই পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে বলে জানাচ্ছে বিজেপি পরিষদীয় দলের একটি সূত্র।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement