পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি অতিথি শিক্ষকদের। বিকাশ ভবনের সামনে।— স্নেহাশিস ভট্টাচার্য
অন্য শিক্ষকদের মতো সম্মান আর নির্দিষ্ট বেতন-কাঠামো চাইছেন তাঁরা। তার জন্য অনশন করেছেন। বিকাশ ভবন অভিযানেও নেমেছেন কলেজের অতিথি শিক্ষকেরা। আর সোমবার সেই অভিযানেই তাঁদের জুটল কিল-চড়-লাথি। এবং পুলিশের লাঠিও। এক জন পুলিশকর্মী এবং ছ’জন অতিথি শিক্ষক আহত হয়েছেন। দু’জন শিক্ষককে আটক করে রাখা হয় বিধাননগর উত্তর থানায়।
পুলিশের পাল্টা অভিযোগ, ১৪৪ ধারা অমান্য করে ব্যারিকেড ভেঙে বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। তা আটকাতে গিয়ে ধস্তাধস্তি হয়েছে। মারধর হয়নি। চালানো হয়নি লাঠিও।
এ দিন দুপুরে প্রথমে ময়ূখ ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশো অতিথি শিক্ষক। প্রথম দিকে পুলিশ তত বেশি ছিল না। অভিযোগ, আচমকাই অতিথি শিক্ষকদের একটি বড় অংশ ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন। তার পরেই পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে, ধস্তাধস্তি করে ছুটতে ছুটতে বিকাশ ভবনের সামনে গিয়ে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই ভবন-চত্বরে। তবে কেউ ভবনের ভিতরে ঢোকেননি।
বিকাশ ভবন অভিযান কেন?
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই মুহূর্তে রাজ্যে প্রায় ১০ হাজার অতিথি শিক্ষক রয়েছেন। সম্প্রতি কলেজের পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলেও অতিথি শিক্ষকদের নির্দিষ্ট বেতন-কাঠামো নিয়ে সরকার কোনও উচ্চবাচ্য করছে না। তাঁরা কোথাও মাসে ৩-৪ হাজার, কোথাও বা ক্লাস-পিছু একশো থেকে দেড়শো টাকা পান। অথচ কলেজে পূর্ণ সময়ের শিক্ষকের থেকেও বেশি কাজ করতে হয় তাঁদের। নির্দিষ্ট বেতন-কাঠামো এবং মর্যাদা বৃদ্ধির দাবিতে ২৮ ডিসেম্বর কলেজ স্কোয়ারে অনশন শুরু করে কলেজ অতিথি শিক্ষক সমিতি। তাদের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বারবার আলোচনায় বসতে চেয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। নিরুপায় হয়েই সোমবার বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়।
অতিথি শিক্ষকদের বিক্ষোভ ঠেকাতে বিধাননগরের এডিসিপি দেবাশিস ধরের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। তারা বিকাশ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করায় গোলমাল বেধে যায়। বিক্ষোভকারীরা সরতে রাজি ছিলেন না। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। দু’পক্ষেরই কয়েক জন আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ হটাতে লাথি, চড়, ঘুষির সঙ্গে সঙ্গে লাঠিও চালিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ অস্বীকার করে এডিসিপি দেবাশিসবাবু বলেন, ‘‘১৪৪ ধারা অমান্য করে কেউ বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখালে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেই হয়। পুলিশ আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করেছে।’’
বিকাশ ভবনের সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে ইন্দিরা ভবনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাস্তার এক দিকে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষামন্ত্রী না-থাকায় অতিথি শিক্ষকেরা উচ্চশিক্ষা সংসদের যুগ্মসচিব শিলাদিত্য বসুরায়ের কাছে স্মারকলিপি দেন।
পরিস্থিতি এই পর্যায়ে গেল কেন?
‘‘অতিথিরা তো আর শিক্ষক নন। প্রাথমিক ভাবে আমরা দেখব কোন কলেজে কত বেশি বা কম শিক্ষক রয়েছেন। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়োগ করবেন। অতিথি শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে আমাদের কোনও পরিকল্পনা নেই,’’ সাফ জানিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী।