—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার যাচাই পর্বের প্রথম দফার শেষে কবে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি) প্রকাশিত হবে, তা কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ঠিক করবেন বলেই খবর। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) মনোজ আগরওয়াল, ভোটার তালিকার বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-সহ কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেই তালিকা কবে প্রকাশিত হবে, সে ব্যাপারে বৈঠকের পরে সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট উত্তর দেননি সিইও। যদিও একটি সূত্রের দাবি, শীঘ্রই প্রথম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
বৈঠক শেষে সিইও সংবাদমাধ্যমে বলেন, “বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে, সব সিদ্ধান্ত নথিবদ্ধ হয়েছে। বৈঠকের চেয়ারম্যানের (প্রধান বিচারপতি) অফিস থেকে কার্যবিবরণী (মিনিটস অব মিটিং) প্রকাশিত হলেই তা জানা যাবে।” তিনি এ-ও জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৪ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। এ দিকে, আসন্ন ভোটে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়বে বলে কমিশন সূত্রের খবর। সে বিষয়ে পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে এক জন করে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের কাজও সেরে ফেলেছে কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো এ বার পশ্চিমবঙ্গেও সব রিটার্নিং অফিসার এসডিও বা তার উপরের স্তরের আধিকারিক। সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ট্রাইবুনাল গঠন ও বিচারপতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া ও আবেদন নিষ্পত্তির কাজ কেমন চলছে, তা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে সুব্রত গুপ্ত বলেন, “ট্রাইবুনালের বিচারপতি কে হবেন, তা প্রধান বিচারপতি স্থির করবেন।” সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে ট্রাইবুনাল গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে।
এ দিন বৈঠক শেষে ভোট ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় সিইও-কে। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমার বলার এক্তিয়ার নেই।” তবে কমিশন সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভোট ঘোষণার জোরালো সম্ভাবনা আছে। সে কথা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি চলছে। গত বিধানসভা ভোটে ১৬০ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং খরচ দেখার জন্য ৮৪ জন ‘এক্সপেন্ডিচার’ পর্যবেক্ষক ছিলেন। এক-এক জন সাধারণ পর্যবেক্ষক ছিলেন একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে। এক জন পর্যবেক্ষককে এ বার একটি বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হবে। কোনও কোনও জেলা এবং কেন্দ্রে একাধিক পর্যবেক্ষক নিযুক্তও হতে পারেন। পুলিশ পর্যবেক্ষকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান কমিশনের। জেলার পরিধি, গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি সব বিষয়ের উপর পর্যবেক্ষকের সংখ্যা স্থির করা হবে। রিটার্নিং অফিসারদের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছিল কমিশন। কমিশন সূত্রের দাবি, তাদের চাপে রাজ্য উপযুক্ত অভিজ্ঞতার আধিকারিকদের নাম প্রস্তাব করায় তাঁদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এ বার গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারেও তা প্রকাশিত হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে