Uniform Civil Code

ইউসিসি-র উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

আগামী সোমবার বিধানসভায় যে এই বিল আনা হবে, তা ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। তা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। শুক্রবার কালীঘাটে দলীয় বৈঠকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বিল দু’টির সর্বাত্মক বিরোধিতার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৬:২৮
Share:

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

দেশের অন্য কিছু রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফায়েড সিভিল কোড বা ইউসিসি) যে ভাবে কার্যকর হয়েছে, সেই বিধি মেনে এ রাজ্যেও তা কার্যকর করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতি গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইউনিফর্ম সিভিল কোড রাজ্যে হবে। একটা পদ্ধতি আছে। কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গড়তে হয়। গুজরাত, উত্তরাখণ্ড এবং অসমে যে ভাবে হয়েছে, সে ভাবে পদ্ধতি মেনে করা হবে। সোমবার বিধানসভায় জানাব।”

আগামী সোমবার বিধানসভায় যে এই বিল আনা হবে, তা ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। তা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। শুক্রবার কালীঘাটে দলীয় বৈঠকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বিল দু’টির সর্বাত্মক বিরোধিতার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপির উদ্দেশ্য নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ইউসিসি কি সত্যিই সকলের সম্মতি, সাংবিধানিক নৈতিকতা এবং নাগরিকদের কল্যাণের লক্ষ্যে হচ্ছে, না কি এটিকে রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে— সেটাই মূল প্রশ্ন বলে তৃণমূলের দাবি। বিধানসভায় স্বীকৃত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, “বুঝতে পারছি না, সরকারের এত তাড়াহুড়োর কী আছে? অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা প্রয়োজন। আর গুন্ডা দমনের নাম করে সরকারের হাতে এমন প্রশ্নহীন ক্ষমতা গণতন্ত্রে কাম্য নয়।”

তৃণমূল সূত্রের খবর, মমতা মনে করছেন যে গুন্ডাদমন আইনের নামে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারই কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি সরকার। ইন্দিরা জমানার ‘জরুরি অবস্থা’ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিজেপি এ রাজ্যে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’য় আইনি মোহর লাগাতে চাইছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দলের দুই নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে দলের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা। এ দিকে রাজ্যে ‘গণতন্ত্র হত্যার’ যে পরিকল্পনা হয়েছে তা জাতীয় স্তরে অ-বিজেপি দলগুলিকে জানাতে বলা হয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। এ দিন কুণাল বলেন, “অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করে বিজেপি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণ করতে চাইছে। গুন্ডাদমনের নামে বিলটিতে যে প্রস্তাব আছে, তাতে মানুষের সাধারণ বিচার পাওয়ার অধিকারই থাকবে না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন