বৃহস্পতিবার বেলুড় মঠে মহারাজদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — নিজস্ব চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম বার বেলুড় মঠে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার হাওড়া জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তার আগে সকালে বেলুড় মঠে যান তিনি। প্রায় ঘণ্টাখানেক সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলুড় মঠ থেকে তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দের বই এবং ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীও স্বামীজির আদর্শের কথা তুলে ধরেন। জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা এবং আধ্যাত্মিকতার প্রসার হওয়া দরকার।
বৃহস্পতিবার বেলুড় মঠে গিয়ে মূল মন্দির এবং অন্য মন্দিরগুলি দর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজোও দেন তিনি। দেখা করেন বেলুড় মঠের অধ্যক্ষ গৌতমানন্দজি মহারাজের সঙ্গে। অন্য মহারাজদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে বেলুড় মঠে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন মহারাজেরা। শুভেন্দু সেখানে পৌঁছে প্রথমেই নতমস্তক হয়ে প্রণাম করেন তাঁদের। তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান মহারাজেরা। এর পরে মঠ দর্শন করতে করতে অন্য মহারাজদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সকলকেই নতমস্তকে প্রণাম করেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বেলুড় মঠ দর্শনের একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন শুভেন্দু। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘‘আজ বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, জগজ্জননী মা সারদা ও বীর সন্ন্যাসী স্বামী জীর চরণে প্রণাম নিবেদন করলাম। বেলুড় মঠ-এর সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী সুবীরানন্দজী মহারাজ, ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বলভদ্রনন্দজী মহারাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ওঁদের আশীর্বাদ লাভ করার সৌভাগ্য হল। তাঁদের আশীর্বাদ ও সান্নিধ্য লাভ করে আমি ধন্য।’’
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময়ে মহারাজেরা তাঁকে মঠের প্রসাদ দেন। শুভেন্দুও জানান, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা এবং আধ্যাত্মিকতার প্রসার হওয়া দরকার। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের জন্য প্রত্যাশিত ভাবেই বেলুড় মঠ এবং আশপাশের চত্বরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলুড় মঠ থেকে বেরিয়ে নিউ কালেক্টরেট বিল্ডিঙে হাওড়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি।