অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
তৃণমূল বিধায়কদের সই-কাণ্ডে এ বার পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল সিআইডি। রাজ্যের এই তদন্তকারী সংস্থার একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সই-কাণ্ডের তদন্তে পাঁচ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিক।
তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে সিট গঠনের কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ নির্দেশে সিট গঠন করা হয়েছে। সই-কাণ্ডের তদন্তে একাধিক জেলার সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হচ্ছে সিআইডি-কে। ওই সূত্রের দাবি, সুষ্ঠু ভাবে এই সমন্বয় বজায় রাখতেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল বিধায়কদের সইয়ে ‘অসঙ্গতি’ নিয়ে রাজ্য বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই সই-কাণ্ডের তদন্তে সোমবার বেলা ১২টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি-র সদর দফতর ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে। শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন বাড়িতেই রয়েছেন অভিষেক। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সোমবার ইডির তলবে ভবানী ভবনে যান কি না, সে দিকেই নজর সকলের।
কী এই সই-কাণ্ড?
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে প্রাক্তন শাসকদলকে। ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পরে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সে দিনই দলের প্রস্তাবে বিধায়কেরা হাত তুলে সায় দিয়ে জানান, পরিষদীয় দলের নেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন তা ঠিক করুন দলনেত্রী মমতা। তার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি।
তার কারণ, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ৬ মে বৈঠক থেকে বেরিয়ে একাধিক বিধায়ক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারী কে হবেন, তা ঠিক করার ভার দেওয়া হয়েছে মমতাকে। বিধানসভা অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করলে ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, সেই সই তাঁদের করানো হয়েছিল ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে। এখানেই মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে খবর।
সই-কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমে সিআইডি চার জনের বাড়িতে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম।
কিন্তু বাহারুলের সই নিয়ে ‘বিতর্ক’ তৈরি হয়েছে। ১৯ তারিখের বৈঠকে সই করানো হলেও বিধানসভায় জমা পড়া চিঠিটিতে তারিখ রয়েছে ৬ মে। ওই দিন মমতার বাড়ির বৈঠকে বাহারুল হাজির ছিলেন না। বাহারুল বলেন, ‘‘তদন্ত যখন চলছে, তখন এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশি কিছু বলব না। শুধু এটুকু বলি, তদন্তকারীরা আমার কাছে জানতে চান ৬ মে আমি কোথায় ছিলাম। আমি তাঁদের জানাই, ওই দিন আমি বাড়িতেই (ভাঙড়ে) ছিলাম। ওই দিনের একটি মিটিংয়ের সই আমায় দেখানো হয়। আমি তাঁদের বলি, ওই দিন আমি কোনও মিটিংয়ে যোগ দিইনি। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে বাড়িতেই ছিলাম।’’
বিষয়টি দলের গোচরেও এনেছেন বলে দাবি করেন বাহারুল। অন্য দিকে, গোটা পরিস্থিতি নিয়ে প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব বলেন, ‘‘আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না এই কারণে, আমরা কাউকে দিয়ে জোর করে সই করাইনি। কে লিখেছে জানি না। তবে বাহারুল ওই সইটি দেখে বলেছেন ওটা ওঁর সই নয়।’’