হুগলির স্কুলে ‘বন্দে মাতরম্’ গাইছে পড়ুয়ারা। — নিজস্ব চিত্র।
রাজ্য সরকারের নির্দেশ ছিল। সেই মতো গরমের ছুটির পরে সোমবার সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুল খুলতেই বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন স্কুলে প্রার্থনার সময়ে পড়ুয়ারা গাইল ‘বন্দে মাতরম্’। কোথাও গলা মেলালেন শিক্ষকেরা। কোথাও পৌঁছে গেলেন বিধায়ক। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে আগে থেকেই সপ্তাহে এক বার গাওয়া হত এই গান।
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে সোমবার থেকে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্ররাও প্রার্থনা হলে ‘বন্দে মাতরম্’ গাইল। কর্তৃপক্ষ জানান, এত দিন প্রার্থনায় জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি সপ্তাহের ছ’দিনে ছ’টি পৃথক গান গাইত ছাত্রেরা। সেই সূচিতে মঙ্গলবার ‘বন্দে মাতরম্’ গাইত পড়ুয়ারা। তবে নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ায় সোমবার থেকে রোজ জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্কুলগুলিতে আগেই পৌঁছে গিয়েছিল সরকারি নির্দেশিকা। সোমবার স্কুলে প্রার্থনার সময় মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালক বিভাগ স্কুলে পৌঁছে যান মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্করকুমার গুছাইত। পড়ুয়াদের সঙ্গে তিনিও গলা মেলান।
বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়-সহ শহরের সব সরকারি স্কুলে একই ছবি। সোমবার সকালে গাওয়া হল ‘বন্দে মাতরম্’। পাশাপাশি আগের মতো গাওয়া হয়েছে জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন। চুঁচুড়ার হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুলে শিক্ষক-পড়ুয়া, সকলেই গান ‘বন্দে মাতরম্’। স্কুলের এক শিক্ষক জানান, আগে থেকেই অভিভাবকদের হোয়াটস্অ্যাপ গ্রুপে গানটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে পড়ুয়ারা শিখে রাখতে পারে। আগামী দিনে গানটি ক্লাসেও শেখানো হবে।
ক্ষমতায় এসে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার জানিয়েছিল, সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে প্রার্থনার সময়ে গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম্’। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রগান হিসাবে পরিচিত ‘বন্দে মাতরম্’ রচনার ১৫০ বছর উদ্যাপনের সময়ে এ রাজ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। বিকাশ ভবন থেকে এই মর্মে রাজ্যের সব জেলা স্কুল পরিদর্শকের (ডিআই) কাছে হোয়াটস অ্যাপ মারফত এই নির্দেশ যায়। তার পরই স্কুল পরিদর্শকেরাও একই ভাবে নির্দেশিকা পাঠায় স্কুলগুলিকে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা আনন্দমঠ উপন্যাস থেকে সংগ্রহ করা এই গানকেও স্কুলের প্রার্থনায় যুক্ত করাতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রের তরফে নভেম্বর ২০২৫ থেকে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বন্দে মাতরম্ গানের ১৫০ বছর উদ্যাপন করছে। তারই অধীনে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।