উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় মানসীর দেহ। ছবি: সংগৃহীত।
ভোপালের ত্বিশা শর্মার মৃত্যুরহস্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। পণের দাবিতে তাঁর উপরে অত্যাচার চলত বলে অভিযোগ। এ বার পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগের মধ্যে এক বধূর মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এল। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ঘটনা। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ।
কানপুরের বাসিন্দা মানসীর দু’বছর আগে বিয়ে হয়েছিল লখনউয়ের সাগর রাজপুতের সঙ্গে। দু’জনেই সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। সমাজমাধ্যমেই আলাপ এবং তার পরে বিয়ে করেন তাঁরা। সেই থেকে লখনউয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন মানসী। গত শনিবার শ্বশুরবাড়ি থেকে মানসীর বাপের বাড়িতে খবর যায়, বধূ আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির এই দাবি মানতে নারাজ মানসীর বাপেরবাড়ির সদস্যেরা। তাঁদের অভিযোগ, মেয়েকে খুন করা হয়েছে। পণের দাবিতে বধূর উপর অত্যাচার চলত বলেও অভিযোগ।
মানসীর পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় নগদ সাত লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রীও ‘উপহার’ দেওয়া হয়। কিন্তু, তাতে সাগরের পরিবার সন্তুষ্ট ছিল না বলে দাবি মানসীর বাপেরবাড়ির সদস্যদের। শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও টাকা চাওয়া হচ্ছিল। এমনকি একটি গাড়িও চাওয়া হচ্ছিল বলে দাবি। বাপেরবাড়ির অভিযোগ, পণের দাবি পূরণ না-হওয়ায় মানসীর উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালত। অতীতে মানসী সেই অত্যাচারের কথা বাড়িতে জানিয়েছিলেন। তখন বাপেরবাড়ির লোকেরা লখনউয়ে গিয়ে মিটমাট করিয়ে এসেছিলেন। এ অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে মানসীর মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসাবে দেখতে নারাজ বাপেরবাড়ির সদস্যেরা। তাঁদের দাবি, পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে মানসীকে। তার পরে সেটি আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই সাগর এবং শ্বশুরবাড়ির অন্য পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। পণের দাবিতে অত্যাচারের জেরে বধূমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মানসীর স্বামীকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।