Oral Health and Fertility

দাঁত ও মাড়ির রোগেও কমতে পারে ডিম্বাণুর গুণমান? মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য কী ভাবে প্রভাব ফেলে প্রজননে

দাঁত ও মাড়ির অসুখ অবহেলা করলে তা থেকে মুখগহ্বরের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, এ তথ্য জানা। তবে প্রজননের উপরেও কি প্রভাব পড়ে? সাম্প্রতিক সময়ের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মুখগহ্বরের যে কোনও সংক্রমণও হয়ে উঠতে পারে বন্ধ্যত্বের কারণ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১২:৫৩
Share:

দাঁত ও মাড়ির রোগ কী ভাবে বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দাঁত নিয়ে কমবেশি অনেকেই ভোগেন। দাঁত বা মাড়িতে সংক্রমণ, দন্তক্ষয়, ক্যাভিটির সমস্যা খুবই পরিচিত। প্রবাদ আছে, দাঁত থাকতে তার মর্ম বোঝা যায় না। সত্যিই তাই। শরীরে রোগ থাকুক বা না থাকুক, দাঁত ও মাড়ির যত্ন না নিলে আরও হাজারটা রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনটা বলেন চিকিৎসকেরাই। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আরও ভয় ধরানো এক দাবি করা হয়েছে। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য প্রভাবিত করতে পারে প্রজনন ক্ষমতাকেও। অর্থাৎ, দাঁত বা মাড়ির কোনও অসুখ অবহেলা করলে তা মহিলাদের বন্ধ্যত্বের কারণও হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement

আগে মনে করা হত, মাড়ি বা দাঁতের সংক্রণমণ কেবল মুখের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মুখের ভিতরে সংক্রমণ ও তার জন্য সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ গোটা শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তিকে তছনছ করে দিতে পারে। শরীরের ভিতরে এমন বিক্রিয়া শুরু হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে প্রজননতন্ত্রেও।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করেছেন। গবেষক মাইকেল ক্লুটস্টেইন ও তাঁর সতীর্থেরা দাবি করেছেন, দাঁত ও মাড়িতে হওয়া যে কোনও ধরনের সংক্রমণ রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ডিম্বাশয় ও জরায়ুতে গিয়েও বাসা বাঁধতে পারে। পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, মুখে এমন কিছু ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ হয় যা ডিম্বাশয়ে ছড়িয়ে পড়লে ডিম্বাণুর গুণমান নষ্ট করে দিতে পারে। এমনকি জরায়ুর ভিতরের আস্তরণেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর থেকে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।

Advertisement

কী ক্ষতি হয় ডিম্বাণুর?

পরফাইরোমোনাস জিঞ্জিভালিস ও প্রিভোটেলা ইন্টারমিডিয়া নামে দু’রকমের ব্যাক্টেরিয়া জন্মায় মুখে, যারা শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি নষ্ট করে দিতে পারে। এই ধরনের জীবাণু ঘটিত সংক্রমণ ডিম্বাশয়ের ভিতরে মারাত্মক প্রদাহ তৈরি করে। ফলে ধীরে ধীরে ডিম্বাশয়ের ভিতরের কোষের ক্ষয় ঘটতে থাকে। ডিম্বাশয়ের ভিতরে ছোট ছোট থলি বা 'ফলিকল'-এর মধ্যে ডিম্বাণু পরিপক্ব হয়। সংক্রমণের কারণে ওই থলিগুলি নষ্ট হতে থাকে ও ভিতরে থাকা ডিম্বাণুর গুণমানও নষ্ট হতে থাকে। মুখগহ্বরে সংক্রমণের কারণে শুধু যে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায় তা নয়, এ থেকে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, মুখ, গলা, স্বরযন্ত্র, টনসিল গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি, প্যারোটিড গ্রন্থি, নাক, সাইনাস, খাদ্যনালির উপরের অংশ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে তাকে 'হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার' বলা হয়। এর থেকে বাঁচতে মুখের ভিতরের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement