Mamata Banerjee’s comments on SIR

‘এসআইআরে বাদ যেতে পারে এক কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম’! ভবানীপুরের সভা থেকে আশঙ্কা প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতার

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে তিনি যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন, তা-ও ভবানীপুরের সভায় উল্লেখ করেছেন মমতা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৩
Share:

জৈন সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরে। ছবি: সংগৃহীত।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর (এসআইআর) নামে রাজ্যের প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরের এক সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানেই নিজের বক্তৃতার শেষে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ভবানীপুরে জৈন সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘এসআইআর চলছে, অনেকের ভোটাধিকার বাদ গেছে। আমি দুঃখিত, প্রথমে ৫৮ লক্ষ বাদ দিয়ে দিল। তার পর আবার লুকিয়ে লুকিয়ে বাদ দিচ্ছে, যে রুলস প্রথমে ছিলই না, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে ৫০ লক্ষ নয়, ৮০ লক্ষ হবে। ২০ লক্ষ ভোটার যদি মারাও গিয়েছে ধরে নিই, তা হলে প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যাবে।’’

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে তিনি যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন, তা-ও ভবানীপুরের সভায় উল্লেখ করেছেন মমতা। মমতা বলেন, ‘‘আমি নিজে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেছি। পিটিশন এখনও পেন্ডিং রয়েছে। আদালতের আদেশের পর বহু দিন কেটে গিয়েছে। আমি জানি না ২৮ তারিখ যে তালিকা প্রকাশ করবে তাতে কী হবে!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর ১৪ তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, লুকিয়ে লুকিয়ে এই ছুপা রুস্তমেরা কী করছে? এক কোটি কুড়ি লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে।’’

বৈধ ভোটারের নাম যে তিনি কোনও ভাবেই বাদ দিতে দেবেন না আবার তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমি মানবতার পক্ষে। এটা দেখতে হবে না কে তৃণমূল, কে বিজেপি, কে সিপিএম। কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে শিখ, কে জৈন, কে খ্রিস্টান। আমি শুধু নিশ্চিত করতে চাই যে দেশের গণতন্ত্র যেন সুরক্ষিত থাকে। আর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত থাকে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বার করে দেওয়া হলে আমি তার বিপক্ষে। আদালতের অর্ডারে চার-পাঁচ দিন হয়ে গিয়েছে। এর পরেও কোনও কাজ শুরু হচ্ছে না। আমি শুধু ভাবছি ২৮ তারিখে যখন ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে, তাতে যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁদের মানসিক অবস্থা কী হবে। আমি তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি। যেন মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, তাঁদের অধিকার যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে। যাঁর যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে, তা সত্ত্বেও তাঁকে বাদ দেওয়া হলে আমি তাঁদের পাশে থাকব। আমার কথা, জিও অওর জিনে দো।’’

Advertisement

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রথম পর্যায়ের এসআইআরে ৪৩ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তাই দলীয় নেতা ও বিধানসভার বিএলএ এবং বিএলএ-২-দের নিয়ে নিজের বাসভবনে একাধিক বার বৈঠক করেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে তাতে কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে তিনি বড়সড় পদক্ষেপ করবেন।

জৈন সম্প্রদায়ের মানুষেরা আগেই একটি মন্দির তৈরি করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। বুধবারের অনুষ্ঠান শেষে তাঁদের মমতা জানান, রাজ্য সরকার মন্দির গড়তে পারে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ, তাঁরা যদি একটি ট্রাস্ট গড়েন তবে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement